ক্ষমতা ও রাজনীতি

CNews-কে ফৌজদারি মামলার সতর্কবার্তা ফ্রান্স সরকারের: বিতাড়িত রুশপন্থী ভাষ্যকারকে ঘিরে বিতর্কে নির্বাসন আদেশের সীমারেখা স্পর্শ

ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রক ARCOM-কে চিঠি দিয়ে সতর্ক করেছেন, আনুষ্ঠানিকভাবে বিতাড়িত RT France-এর সাবেক প্রধান জেনিয়া ফেদোরোভাকে পর্দায় ফিরিয়ে আনলে রক্ষণশীল চ্যানেল CNews ফৌজদারি মামলার মুখে পড়বে। ঘটনাটি ফরাসি প্রশাসন ও বোলোরে মিডিয়া সাম্রাজ্যকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে এবং ফ্রান্সের জনপরিসরে দেশীয় রক্ষণশীল অলিগার্কদের সঙ্গে ক্রেমলিনের প্রচারমাধ্যমের সংযোগ উন্মোচিত করেছে।

1 বার দেখা হয়েছেসংরক্ষণ করতে প্রবেশ করুন
TRUTH ERA

বৃহস্পতিবার ফ্রান্সের সরকার রক্ষণশীল টেলিভিশন চ্যানেল CNews-কে স্পষ্ট সতর্কবার্তা দিয়েছে: রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম RT-এর ফ্রান্স শাখার সাবেক প্রধান জেনিয়া ফেদোরোভাকে পর্দায় ফিরিয়ে আনলে চ্যানেলটি ফৌজদারি বিচারের মুখে পড়বে। এএফপি ও France 24-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রক ARCOM-কে পাঠানো এক চিঠিতে এই অবস্থান জানিয়েছেন।

নির্বাসন আদেশের বিরুদ্ধে করা আপিল খারিজ হওয়ার পর এ বছরের আগস্টে ৪৫ বছর বয়সি ফেদোরোভাকে ফ্রান্স আনুষ্ঠানিকভাবে বিতাড়িত করে। এর আগে ফরাসি আদালতগুলো রায় দিয়েছিল যে তিনি ক্রেমলিনের পক্ষে প্রচারমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন; তার বিরুদ্ধে নির্বাসন আদেশ জারি এবং তার সম্পদ জব্দ করা হয়। ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের পর ফ্রান্সে RT France সম্প্রচার নিষিদ্ধ হওয়ার আগে ফেদোরোভা ওই চ্যানেলের প্রধান ছিলেন।

Le Monde-এর প্রকাশিত এবং এএফপির দেখা চিঠির বক্তব্য অনুযায়ী, নুনেজ ফেদোরোভাকে তথ্য ও জনপরিসরের বিতর্কে কারসাজি করা এবং দেশের মৌলিক স্বার্থ ক্ষুণ্ন করার অভিযোগে অভিযুক্ত করেছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সতর্ক করেছেন, তাকে আবার পর্দায় ফেরানোর যেকোনো ব্যবস্থা নির্বাসন ও সম্পদ জব্দের পদক্ষেপকে সরাসরি লঙ্ঘন করবে এবং একাধিক ফৌজদারি মামলার কারণ হতে পারে।

তবে France 24-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী CNews জানিয়েছে, ফেদোরোভা শিগগিরই ভিডিও সংযোগের মাধ্যমে চ্যানেলটির অনুষ্ঠানে আবার উপস্থিত হবেন। এই ঘোষণায় ফরাসি প্রশাসন এবং বোলোরে পরিবারের নিয়ন্ত্রিত মিডিয়া গোষ্ঠীর মধ্যে সরাসরি সংঘাত তৈরি হয়েছে। ভিনসাঁ বোলোরে ফ্রান্সের একজন রক্ষণশীল বিলিয়নিয়ার; সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটির জনমত গঠনের পরিসরে তার মিডিয়া সাম্রাজ্য ক্রমাগত বিস্তৃত হয়েছে। RT নিষিদ্ধ হওয়ার পর ফেদোরোভা এই গোষ্ঠীর মালিকানাধীন বিভিন্ন গণমাধ্যমে, যার মধ্যে CNews-ও রয়েছে, ভাষ্যকার হিসেবে কাজ করেছেন।

ফেদোরোভা অভিযোগগুলো অস্বীকার করে এগুলোকে সেন্সরশিপ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি আরও বলেছেন, নির্বাসন আদেশ কার্যকর হওয়ার সময় তিনি ফ্রান্সের বাইরে ছুটিতে ছিলেন, তাই তাকে কখনো বাস্তবে বিতাড়িত করা হয়নি।

এই ঘটনার কাঠামোগত তাৎপর্য ব্যক্তির থাকা-না-থাকার প্রশ্নের বহু ঊর্ধ্বে। ফ্রান্সের জনপরিসরে যখন রক্ষণশীল মিডিয়া অলিগার্কদের সঙ্গে ক্রেমলিনের প্রভাবাধীন বলে অভিযুক্ত বিদেশি প্রচার নেটওয়ার্কের সংযোগ ঘটেছে, তখন রাষ্ট্র দেশের মৌলিক স্বার্থের নামে ফৌজদারি হাতিয়ার ব্যবহার করে এই সংযোগ ছিন্ন করার চেষ্টা করছে। বিতর্কটি মতপ্রকাশের সীমা থেকে ক্ষমতার সীমায় সরে গেছে। পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ পরীক্ষা করবে, ফ্রান্সে কোনটি বেশি শক্তিশালী: অলিগার্ক পুঁজির ওপর রাষ্ট্রীয় যন্ত্রের বাধ্যতামূলক ক্ষমতা, নাকি জনপরিসরের এজেন্ডা গঠনে পুঁজির ক্ষমতা।

ফেদোরোভা শেষ পর্যন্ত CNews-এর অনুষ্ঠানে বাস্তবে উপস্থিত হবেন কি না, তা এখনও অনিশ্চিত। সরকার এর ভিত্তিতে ফৌজদারি প্রক্রিয়া শুরু করবে কি না, সেটিও পর্যবেক্ষণের বিষয়.

মন্তব্য

0

এখনও কোনো মন্তব্য নেই। আলোচনা শুরু করুন।