জার্মানির চরম-ডানপন্থী দলের ঐতিহাসিক সাফল্য: ট্রাম্পের প্রকাশ্য সমর্থন ও স্থগিত ৯/১১ স্মরণ কল
জার্মানির 'অলটারনেটিভ ফর ডয়চল্যান্ড' (AfD) সাক্সোনি-আনহাল্ট রাজ্যের নির্বাচনে প্রায় ৪৪% ভোট অর্জন করে চ্যান্সেলর মেরৎসকে বুন্দেস্টাগের বিতর্কে দলটিকে 'ধ্বংসাত্মক শক্তি' বলে আখ্যা দিতে বাধ্য করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অবিলম্বে এই জয়ের প্রশংসা করেন এবং ফলাফলকে 'অত্যন্ত খারাপ অভিবাসন আইন'-এর সাথে যুক্ত করেন। ৯/১১ ঘটনার ২৫তম বার্ষিকী স্মরণে নির্ধারিত মার্কিন-জার্কম্যান নেতাদের ফোন কল জার্মান পক্ষ স্থগিত ঘোষণা করেছে, কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি।
বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, জার্মানির 'অলটারনেটিভ ফর ডয়চল্যান্ড' (AfD) সাক্সোনি-আনহাল্ট রাজ্যের পার্লামেন্ট নির্বাচনে প্রায় ৪৪% ভোট অর্জন করেছে। মেরৎসের নেতৃত্বাধীন ইউনিয়ন দল (CDU) ওই রাজ্যে প্রায় অর্ধেক ভোট হারিয়ে মাত্র ১৭.২% পেয়েছে। মেরৎস নিজে এই ফলাফলকে 'ভূমিকম্পের মতো' বলে বর্ণনা করেছেন।
নির্বাচনের পর AfD-র নেত্রী অ্যালিস ভাইডেল বুন্দেস্টাগের বিতর্কে মেরৎসকে আক্রমণ করে বলেন, ভোটাররা প্রমাণ করেছে যে মেরৎস ও সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (SPD) জোট সরকার 'সম্পূর্ণ ব্যর্থ' এবং তাঁর রাজনৈতিক দিন শেষ হয়ে আসছে। মেরৎস তাঁর জবাবে সরাসরি ভাইডেলকে লক্ষ্য করে বলেন, 'তোমরা একটি ধ্বংসাত্মক শক্তি এবং সর্বদাই থাকবে'। তিনি AfD-র অভিবাসন নীতিকে জার্মানির দক্ষ শ্রমিকদের জন্য 'জাতিগত নির্মূলকরণ' বলে অভিযোগ করেন এবং রাশিয়া সমর্থনের কারণে দলটি জার্মানির স্বার্থকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে বলে দাবি করেন, আরও বলেন তাদের 'প্রত্যাবাসন' নীতি লক্ষ লক্ষ মানুষকে প্রভাবিত করবে।
কিন্তু জার্মানির অভ্যন্তরীণ রাজনীতির এই দ্বন্দ্ব শীঘ্রই আটলান্টিক পেরিয়ে গেল। বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প AfD-র সাফল্যের প্রশংসা করে বলেন, 'জার্মানির জনতাবাদী দলটি একটি দারুণ রাত কাটিয়েছে', এবং নির্বাচনের ফলাফলকে সরাসরি 'অত্যন্ত খারাপ অভিবাসন আইন'-এর সাথে যুক্ত করেন। একজন বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিজ দেশের প্রধান মিত্রের ভেতরে, জার্মান গোয়েন্দা সংস্থার 'ডানপন্থী চরমপন্থী' হিসেবে চিহ্নিত একটি দলকে এভাবে প্রকাশ্যে সমর্থন দেওয়ার ঘটনা — যুদ্ধ-পরবর্তী মার্কিন-জার্মান সম্পর্কের ইতিহাসে বিরল।
সাক্সোনি-আনহাল্ট রাজ্যের AfD-কে ইতিমধ্যেই জার্মান গোয়েন্দা সংস্থা 'ডানপন্থী চরমপন্থী' হিসেবে চিহ্নিত করেছে, এবং এর কর্মসূচিতে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে 'বহিষ্কার ও প্রত্যাবাসন' অভিযানের প্রতিশ্রুতি রয়েছে। বিতর্কে মেরৎসও রাশিয়া সমর্থনের কারণে দলটি জার্মানির স্বার্থকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে — এই অবস্থান স্পষ্ট করেন। AfD-র এই দ্বৈত বাহ্যিক স্থানাঙ্ক — একদিকে ওয়াশিংটনের প্রকাশ্য প্রশংসা, অন্যদিকে রাশিয়াপন্থী অবস্থানের জন্য নিজ দেশের চ্যান্সেলরের প্রকাশ্য নিন্দা — ইউরোপের চরম-ডানপন্থী আন্দোলনগুলোর বাহ্যিক শক্তির উপর নির্ভরতার মাত্রা তুলে ধরে। সাধারণ আখ্যানে রাশিয়ার ইউরোপীয় রাজনীতিতে প্রভাবকে সতর্কতার সাথে 'বাহ্যিক হস্তক্ষেপ' হিসেবে দেখা হয়, কিন্তু যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট একইভাবে সরাসরি মিত্র দেশের অভ্যন্তরীণ নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করেন, তখন একই সতর্কতা খুব কমই সমান শক্তিতে দেখা যায়।
মার্কিন-জার্মান সম্পর্কের উত্তেজনার আরেকটি সংকেত দেখা গেল কূটনৈতিক সূচিতে। বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সপ্তাহে ৯/১১ ঘটনার ২৫তম বার্ষিকী স্মরণে নির্ধারিত মার্কিন-জার্মান নেতাদের ফোন কল জার্মান পক্ষ স্থগিত ঘোষণা করেছে, কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি এবং নতুন তারিখও প্রকাশ করা হয়নি। যদিও কলটি স্থগিত করার প্রকৃত কারণ কোনো পক্ষই প্রকাশ করেনি, নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ এবং ট্রাম্পের AfD-র প্রতি অলঙ্ঘনীয় প্রকাশ্য সমর্থনের সময়কাল এই কূটনৈতিক সূচির পরিবর্তনকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে পরীক্ষা করার সুযোগ দেয়।
রাজ্য পর্যায়ে, এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন থেকে AfD এখনও তিনটি আসন দূরে রয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে জার্মানির ১৬টি ফেডারেল রাজ্যের কোনোটিতেই কোনো চরম-ডানপন্থী দল ক্ষমতায় আসেনি। দলটি বামপন্থী জনতাবাদী দল BSW-এর সাথে সহযোগিতায় আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং তাদের প্রার্থী উলরিশ সিগমুন্ডকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে সমর্থন দিতে চায়। সিগমুন্ডের ডেপুটি আরও এক ধাপ এগিয়ে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে CDU-এর সাথে সহযোগিতায় আগ্রহী — শর্ত হলো, পরবর্তী দলটিকে চরম-ডানপন্থীদের সাথে সহযোগিতা না করার 'ফায়ারওয়াল' নীতি ত্যাগ করতে হবে। প্রধান ধারার দলগুলো এই ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম করবে কি না, তা এখনও অনিশ্চিত।
জার্মানির পূর্বে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচন যুদ্ধ-পরবর্তী 'আর কখনো নয়' — এই নীতির ভিত্তিতে গড়ে ওঠা রাজনৈতিক সমঝোতার উপর সবচেয়ে সরাসরি চাপের পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে — যে সমঝোতা জার্মানির ১৬টি ফেডারেল রাজ্যের কোনোটিতেই চরম-ডানপন্থী দলের ক্ষমতায় আসা নিশ্চিত করেছিল। এখন AfD সরকার গঠনের একেবারে দোরগোড়ায়, আটলান্টিক-পেরিয়ে চরম-ডানপন্থীদের যুগলবন্দি সামনে আসছে, এবং মার্কিন-জার্মান স্মরণ কল কোনো পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই স্থগিত হয়েছে — এই সমঝোতা কতটা দৃঢ় রয়েছে, তা এখন জার্মানি এবং গোটা ইউরোপের রাজনীতির কেন্দ্রীয় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। আলোচনা শুরু করুন।