পাকিস্তান মেডিকেল কলেজ থেকে আফগান শিক্ষার্থীদের বহিষ্কারের নির্দেশ দিয়েছে — রাষ্ট্রীয় সংঘাতের মূল্য সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর চাপিয়েছে
পাকিস্তান মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল ৯ সেপ্টেম্বর দেশের সকল মেডিকেল কলেজকে চলতি শিক্ষাবর্ষে আফগান শিক্ষার্থীদের ভর্তি না করার নির্দেশ দিয়েছে এবং বর্তমানে অধ্যয়নরত আফগান শিক্ষার্থীদের আফগানিস্তানে ফিরে যেতে বলেছে। লাহোরের কিং এডওয়ার্ড মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রথমে এই নির্দেশ কার্যকর করে এবং ২২ জন আফগান শিক্ষার্থীকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার নির্দেশ দেয়। এই নির্দেশ এমন একটি প্রেক্ষাপটে এসেছে যখন পাক-আফগান সম্পর্ক ক্রমশ অবনতির দিকে যাচ্ছে এবং গত বছর পাকিস্তান ইতোমধ্যে ১০ লক্ষেরও
দ্য হিন্দুর আন্তর্জাতিক সংস্করণের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তান মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল ৯ সেপ্টেম্বর দেশের সকল মেডিকেল কলেজ ও ডেন্টাল কলেজকে নির্দেশ দিয়েছে: চলতি শিক্ষাবর্ষে আফগান শিক্ষার্থীদের ভর্তি না নিতে এবং বর্তমানে অধ্যয়নরত আফগান শিক্ষার্থীদের আফগানিস্তানে ফিরে যেতে। পাকিস্তানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই নির্দেশ শুধুমাত্র আফগান নাগরিকদের লক্ষ্য করে এবং অন্যান্য জাতীয়তার শিক্ষার্থীদের প্রভাবিত করবে না। এই নিষেধাজ্ঞা পাকিস্তানে স্নাতক পর্যায়ে মেডিসিন ও ডেন্টাল সায়েন্স অধ্যয়নরত কয়েকশো আফগান শিক্ষার্থীকে প্রভাবিত করতে পারে, যাদের মধ্যে কেউ কেউ স্নাতক সম্পন্ন করার কাছাকাছি রয়েছেন।
লাহোরের কিং এডওয়ার্ড মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (KEMU) এই নির্দেশ কার্যকরকারী প্রথম সরকারি প্রতিষ্ঠান হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন কর্মকর্তা প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়া (PTI)-কে বলেছেন: "KEMU-তে বর্তমানে ২২ জন আফগান শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত রয়েছেন এবং তাদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।"
তবে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাস্তবায়ন পর্যায়ের বিষয়ে দূরত্ববর্তী অবস্থান নিয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাজ্জাদ হায়দার খান স্থানীয় দৈনিক ডনকে বলেছেন, পাকিস্তানের "অবৈধ বিদেশিদের প্রত্যাবাসন কর্মসূচি" অনুযায়ী কার্যকর পাসপোর্ট ও ভিসা নেই এমন যেকোনো বিদেশি অবৈধভাবে বসবাস করছেন এবং তাদের ফেরত পাঠানো উচিত; কিন্তু তিনি একই সাথে বলেছেন: "পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ আমাদের বর্তমান নীতি ও বিধি অনুযায়ী আফগান শিক্ষার্থীদের ভিসা নবায়নের আবেদন গ্রহণ করছে।"
বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের তাৎক্ষণিক বহিষ্কার আদেশ এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের "বিধি অনুযায়ী নবায়ন প্রক্রিয়া" সংক্রান্ত অবস্থান একসাথে টিকে থাকায় নীতি বাস্তবায়নে ছেদ প্রকাশ পাচ্ছে; এবং এই ছেদের পরিণতি বহন করছেন শ্রেণিকক্ষে বসে থাকা নির্দিষ্ট নামের আফগান শিক্ষার্থীরা, কোনো স্বাক্ষরকারী নন। ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের মোট সংখ্যা এখনও পাকিস্তানের পক্ষ থেকে প্রকাশ করা হয়নি, বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলোতে এই নির্দেশ কার্যকর হবে কি না এবং কীভাবে হবে তাও স্পষ্ট করা হয়নি।
এই নির্দেশের সরকারি প্রেক্ষাপটকে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের তালেবান কর্তৃপক্ষের মধ্যে ক্রমশ অবনতি হওয়া সম্পর্কের সাথে যুক্ত করা হয়েছে। পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে নিষিদ্ধ পাকিস্তানি তালেবান আন্দোলনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে আসছে যে তারা আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে ঘাঁটি ব্যবহার করে হামলা চালাচ্ছে — এই অভিযোগ আফগান তালেবান কর্তৃপক্ষ অস্বীকার করেছে। গত বছরের ৯ অক্টোবর কাবুলে ধারাবাহিক বিস্ফোরণ ঘটে, এরপর উভয় পক্ষের মধ্যে সীমান্ত পেরিয়ে গোলাগুলিতে প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয় এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও অবনতির দিকে যায়।
লক্ষ লক্ষ আফগান গত কয়েক দশক ধরে পাকিস্তানে আশ্রয়ের সন্ধানে পর্যায়ক্রমে প্রবেশ করেছে, যাদের মধ্যে কয়েক লক্ষ আফগান ২০২১ সালে আফগানিস্তানে তালেবানের পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর ঢুকেছে। পাকিস্তান ২০২৩ সালে নথিবিহীন বিদেশিদের বিরুদ্ধে বৃহৎ আকারের প্রত্যাবাসন অভিযান শুরু করে এবং গত বছর কয়েক লক্ষ আফগানের বসবাসের অনুমতি বাতিলের পর তা পুনরায় চালু করে। চলতি বছরের জুন মাসে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ১০ জুলাই থেকে পাকিস্তানে বৈধ ভিসাবিহীন আফগানদের গ্রেফতারের নির্দেশ দেয়; শুধুমাত্র গত বছরেই ১০ লক্ষেরও বেশি আফগানকে পাকিস্তান থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
নথিবিহীন বসবাসকারীদের বিরুদ্ধে বৃহৎ আকারের গ্রেফতার ও প্রত্যাবাসন লক্ষ্য করে সেই ব্যক্তিদের যাদের কোনো বৈধ পরিচয় নেই; আর মেডিকেল কলেজগুলোর বৈধ কাগজপত্রধারী শিক্ষার্থীদের তাৎক্ষণিক বহিষ্কার ছিন্ন করে বিধি অনুযায়ী আইনত অধ্যয়নরত ব্যক্তিদের পড়াশোনা। যখন সরকার-দ্বিপাক্ষিক ভূ-রাজনৈতিক সংঘাত কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে প্রশমন করা যায় না, তখন সবার আগে পড়াশোনা ও বসবাসের অধিকার ছিন্ন হয় সেই ব্যক্তিদের যাদের হাতে কোনো দর-কষাকষির ক্ষমতা নেই।
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। আলোচনা শুরু করুন।