নেতানিয়াহু ৭ অক্টোবরের আগে আমিরাতের সতর্কতা পাওয়ার খবর অস্বীকার করে 'হারেৎজ'-এর বিরুদ্ধে মামলার হুমকি দিয়েছেন, সরকারি জবাবদিহি তদন্ত চালু করতে অস্বীকার
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু কঠোরাবে অস্বীকার করেছেন 'হারেৎজ' পত্রিকার এমন একটি প্রতিবেদন, যেখানে বলা হয়েছিল ০২৩ সালের অক্টোবরের হামলার দশ দিন আগে তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদের কা থেকে মৌখিক সতর্কতা পেয়েছিলেন; একে "সম্পর্ণ মি্যা" বলে অভিহিত করে তিনি 'হারেৎজ'-এর বিরুদ্ধে মানহানির মামলার হুমকি দিয়েছেন। 'হারেজ' অবশ্য তাদের প্রতিবেদনের সত্যতায় অটল রয়েছে। এদিকে, নেতানিয়াহু হামলার ঘটনায় কোনো সরকারি তদন্ত চালু করতে অস্বীকার করেছেন, এবং মার্কিন মধ্য্থতায় অর
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু দেশীয় গণমাধ্ম, প্রাক্তন সামরিক কর্মকর্তাদের শীর্ মহল এবং বিরোধী দলীয় নোদের কা থেকে ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে রয়েছেন। ABC News-এর খবর অনুযায়ী, নেতানিয়াহু ইসরায়েলি পত্রিকা 'হারেৎজ'-র একটি প্রতিবেদন অস্বীকার করেছেন — যেখানে বলা হয়েছিল ২০২ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের প্রাণাতী হামলার দশ দিন আগে তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদের কা থেকে মৌিক সতর্তা পেয়েছিলেন, যেখানে জানানো হয়েছিল যে হামাস একটি সন্নিকটে আসা হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছে, যা রক্তপাত ঘটাতে পারে এবং ইসরায়েল বেশ কয়েকটি আরব ও মুসলি দেশের মধ্যে স্বাভাবিকীকরণ চুক্তিকে বিপন্ন করতে পারে।
'হারেজ'-এর প্রতিবেদনে আরও প্রকাশ করা হয়েছে যে, নোনিয়াহু আমিরাতের প্রেসিেন্টের সঙ্গে ফোনালাপে কথিতভাবে "আপেক্ষিকভাবে শান্ত প্রতিক্রিয়া" দিয়েছিলেন, প্রতিপক্কে আশ্বস্ত করে বলেছিেন যে সরায়ে যেকোনো পরি্থিতির জন্য প্রস্তুত রয়েছে এবং মনে করেছিলেন যে আরও সম্ভাব্য হামলা আসবে অধিকৃত পশ্চি তীর েকে। প্রতিবেনে একইস্গে ল্লে করা হয়েছে যে, এই সতর্তা ইসরায়েলি প্রতিরক্া বা গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁানো হয়নি।
নেতানিয়াহু এই প্রতিবেদনকে "সম্পূর্ণ মিথ্যা" (absolute lie) বলে চি্নিত করেছেন, দাবি করেছেন যে ০২৩ সালের সে্টেম্বর বা অক্টোবরের শুরুতে আমিরাতের প্রেসিেন্টের সঙ্গে "কোনো ফোনালাপ হয়নি", এবং একে আগামী মাসের সরায়েি নির্াচনের আগে তাঁর বিরুদ্ধে একটি মি্যাচারমূলক প্রচারণা বলে অভিযোগ করেছেন। তাঁর আইনজীবী ইতিমধ্যেই 'হারেৎজ'-কে মানহানির মামলার হুমকি দিয়ে চিঠি দিয়েছেন। 'হারেৎজ' জানিয়েছে যে তারা তাদের প্রতিবেদনে অটল রয়েছে।
নেতানিয়াহুর কার্যালয়ের বিৃতিতে বলা হয়েছে: "যদি কোনো প্রাস্গিক তথ্য থাকে, তাহলে তা দুই দেশের মধ্যার গোয়েন্দা ্যানেলের মাধ্মে প্রেরণ করা হয়েছে।" সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নেতৃত্বের মধ্যে কথিত আলোচনা সম্পর্কে মন্তব্য করতে অস্বীকার করেছে, কেবল জানিয়েছে যে দুই দেশ পাঁচ বছর আগে আনুষ্ানিকভাবে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের পর থেকে "উন্মুক্ত ও সরাসরি যোগাোগ চ্যানেল" বজায় রেখেছে এবং উল্লে করেছে যে "প্রয়োজন অনুযায়ী, সংশ্লি্ট সকল গোয়েন্দা তথ্য ইতিমধ্যে জানানো হয়েছে এবং ভবিষ্যেও জানানো হবে"।
আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নেতানিয়াহু ২০৩ সালের ৭ অক্টোবরের ঘটনায় কোনো সরকারি তদন্ত ালু করতে অস্বীকার করেছেন — এই সি্ধান্তটি এমন একটি প্রেক্ষাপটে এসেছে যন ইসরায়েলের সামাজিক ও রাজনৈতিক মহলে তাঁর জবাবদিির দাবি ক্রমবর্ধমান। ইসরায়েের প্রাক্তন শীর্ষ জেনারেল ও বর্তমানে নোনিয়াহুর প্রধান নির্বাচনী প্রতি্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচিত গাদি আইজেনকট প্রকাশ্যে প্রধানমন্ত্রীকে হামলার আগের সতর্তাগুলো উপেক্ষা করার অভিযোগে দোষী সাব্য্ত করেছেন এবং সামাজিক মাধ্মে লিখেছেন: "He is unfit" (তিনি অযোগ্য)। অপর বিরোী নেতা নাফতালি বেনেট বলেছেন: "Netanyahu bears personal and direct responsibility for the failure that led to the deaths of thousands of Israelis on his watch." (তাঁর দায়িত্বকালে হাজার হাজার ইসরায়েলির মৃত্যুর দিকে নিয়ে যাওয়া ব্যর্থতার জন্য নেতানিয়াহু ব্যক্তিগত সরাসরি দায় বহন করেন।)
এই জবাবদিহি বিতর্কের প্রেক্ষাট হলো গাজায় লমান মানবিক বিপর্যয়। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২ সালের ৭ অক্োবর হামাসের হামলায় ১,২০০-এর বেি ইসরায়েলি নিহত এবং ২৫১ জনকে জিম্মি হিসেে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছি। এর জবাবে ইসরায়েল গাজায় সামরিক অভিযান শুরু করে। গাজার স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, ইসরায়েলের অভিযানে ৭৩,৬৫০-এর বেি ফিিস্তিনি নিহত এবং কয়েক লক্ষ মানুষ আহত হয়েছেন।
মার্িন মধ্যস্থতায় অর্জিত একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি ২২৫ সালের অক্টোবরে কার্কর হয়েছে, কিন্তু ABC News-এর খবর অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি সংঘাতের অবসান টায়নি। গাজার স্বাস্্য বিভাগের তথ্য অনুসারে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে গাায় ১,৩০০-এর বেশি ফিলি্তিনিকে ইসরায়েলি বাহিনী হত্যা করেছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইসরায়েল গাজা শহরে বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে, যাতে দুই শিশুসহ কমপক্ষে তিনজন ফিিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে এই ধরনের অভিযানের উদ্দেশ্য হামাস ও অন্যান্য ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ীর হামলা প্রতিত করা, কিন্তু হামাস ইসরায়েলকে যুদ্ধবিরতি চুক্তি বারবার লঙ্ঘন এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ্রাম্পের পরিকল্পিত বৃহত্তর শান্তি প্রস্তাব — যাতে ইসরায়েলের গাজা থেকে আরও প্রত্যাহার এবং হামাের নিরস্ত্রীকরণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে — ব্যর্থ করার অভিযোগ এনেছে।
'হারেৎজ'-এর সতর্কতা সম্পর্কিত প্রতিবেদন ও নেতানিয়াহুর অস্বীকৃতির মধ্যকার মুখোমুখি অবস্ান ৭ অক্টোবরের টনাকে কেন্দ্র করে ক্ষমতার জবাবদিহির অভাবকে স্পষ্ট করে তুলেছে: একদিকে সর্বোচ্চ নেতা স্বাধীন তদন্ত প্রত্যাখ্যান করছেন এবং প্রতিবেকদের বিরুদ্ধে মামলার হুমকি দিচ্ছেন, অন্যদিকে যুদ্বিরতির নামে সহিংসতার চক্র অব্যাহত রয়েছে।
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। আলোচনা শুরু করুন।