ব্রাসেলসে সঙ্কোচন-বিরোধী বিক্ষোভে সহিংসতা: মধ্যপন্থী-ডানপন্থী সরকার ১০০০০০ কোটি ইউরো কাটচ্ছেদ করতে চাইলে ট্রেড ইউনিয়ন ধনীদের ওপর কর ধার্যের দाবি
বেলজিয়ামের রাজধানীতে শুক্রবার সঙ্কোচন-বিরোধী বিক্ষোভ হয়েছে। শত শত মুখোশপড়ি বিক্ষোভকারী পুলিশের উপর পাথর নিক্ষেপ করলে পুলিশ জলকামান ও টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করে এবং প্রায় ২০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়, যাদের অধিকাংশই অপ্রাপ্তবয়স্কী। এই কর্মসূচি হলো জাতীয় ট্রেড ইউনিয়নের বিক্ষোভের অংশ, যেখানে ৩০ থেকে ৫০ হাজার মানুষ অংশ নেন। প্রধানমন্ত্রী ডে ভেফার নেতৃত্বাধীন সরকার ২০২৯ সালের আগে ১০০ বিলিয়ন ইউরো কাটচ্ছেদের পরিকল্পনা করেছে। ট্রেড ইউনিয়ন স্বাস্থ্যখাতে কাটচ্ছেদ ও ভ্যাট বৃদ্ধির বিরোধিতা করে সর্বোচ্চ
ব্রাসেলসের শুক্রবারের সঙ্কোচন-বিরোধী বিক্ষোভ গুরুতর পুলিশ-জনতা সংঘর্ষে রূপ নিয়েছে। ডয়চে ভেলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রেড ইউনিয়ন আয়োজিত বিক্ষোভের প্রান্তসীমায় কালো পোশাকে আবৃত শত শত মুখোশধারী বিক্ষোভকারী পুলিশের ওপর পাথর ও অন্যান্য বস্তু নিক্ষেপ করে এবং পুলিশ-বিরোধী স্লোগানে পরিবেশ মুখরিত হয়ে ওঠে; পাশ্ববর্তী দেয়ালেও একই ধরনের গ্রাফিতি আঁকা হয়। একজন এএফপি সাংবাদিক প্রত্যক্ষ করেছেন যে, যাত্রীদের নামানোর পর দুটি বাসে হামলা চালানো হয়, দুর্বৃত্তরা জানালা ভাঙে, আসন খুলে ফেলে, এবং যুবকরা আবর্জনার বাক্স, শেয়ার্ড সাইকেল ও ইলেকট্রিক স্কুটারে আগুন লাগিয়ে দেয়। রয়টার্সের প্রতিবেদনে ফায়ার সার্ভিসের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, দমকলকর্মীরা বাসের আগুনসহ বেশ কয়েকটি আগুন নেভান।
পুলিশ এক বিবৃতিতে জানায়, "শত শত যুবক বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে জড়ো হয়। পরিবেশ ক্রমশ উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে এবং জনশৃঙ্খলা গুরুতরভাবে বিঘ্নিত হয়।" পুলিশ জানায়, বিক্ষোভের বাইরের দিকে যুবকরা লাঠি ও বোতল দিয়ে পুলিশকর্মীদের আক্রমণ করলে পুলিশ জনতার দিকে জলকামান নিক্ষেপ করে ও টিয়ার গ্যাস ছাড়ে। প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুলিশ প্রায় ২০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে, যাদের অধিকাংশই অপ্রাপ্তবয়স্ক।
ট্রেড ইউনিয়নের পক্ষ থেকে জোর দিয়ে বলা হয়, প্রধান বিক্ষোভটি নিজেই শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইউনিয়নের প্রধান বার্ট এনহ্রার আগে ফেসবুকে দুর্বৃত্তদের বিক্ষোভ থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছিলেন: "এদের সঙ্গে রাস্তায় নামা হাজার হাজার অন্যদের প্রচার করতে চাওয়া বার্তার কোনো সম্পর্ক নেই।"
এই সহিংসতা ঘটেছে প্রায় ৩০ থেকে ৫০ হাজার মানুষের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত একটি সমাবেশে, যা বেলজিয়ামের জাতীয় ট্রেড ইউনিয়নগুলোর সরকারি সঙ্কোচনমূলক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক বিক্ষোভ কর্মসূচির অংশ। বেলজিয়াম বিশাল সরকারি ঋণ ও চলমান বাজেট ঘাটতির বোঝা বহন করছে। প্রধানমন্ত্রী বার্ট ডে ভেফার নেতৃত্বে মধ্যপন্থী-ডানপন্থী সরকারের লক্ষ্য হলো ২০২৯ সালে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে ১০০ বিলিয়ন ইউরো (প্রায় ১১.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) খরচ কমানো।
ট্রেড ইউনিয়নের অবস্থান সরকারের সঙ্কোচন নীতির সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে। ইউনিয়ন স্পষ্টভাবে স্বাস্থ্যের মতো খাতে কাটচ্ছেদ ও ভ্যাট বৃদ্ধির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে, বদলে সর্বোচ্চ আয়ের মানুষদের ওপর কর বৃদ্ধির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। ডয়চে ভেলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই বিকল্প প্রস্তাব একটি মূল নীতিগত পছন্দের দিকে ইশারা করে: সরকারি সেবা ও সাধারণ ভোক্তাদের ওপর কাটচ্ছেদের বোঝা চাপানো হবে, নাকি সবচেয়ে ধনীদের ওপর বেশি দায়িত্ব দেওয়া হবে।
ব্রাসেলসের এই সংঘাত ঘটেছে এক সপ্তাহের উত্তেজনার পর। ডয়চে ভেলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, লিয়েজ শহরে কর্তৃপক্ষ আগে থেকেই শিক্ষার্থী ও পুলিশের সংঘর্ষ এবং দোকানে ভাঙচুরের কারণে জনসমাবেশ নিষিদ্ধ করেছিল। লিয়েজের ঘটনায় ২০০-এর বেশি মানুষ গ্রেপ্তার হয়েছিল এবং কয়েক ডজন পুলিশ কর্মী আহত হয়েছিলেন। এটি দেখায় যে, বেলজিয়ামে সঙ্কোচন নীতির প্রতি অসন্তোষ ট্রেড ইউনিয়ন নেতৃত্বাধীন বৈধ বিক্ষোভ থেকে আরও ব্যাপক ও তীব্র রাস্তার কর্মকাণ্ডে ছড়িয়ে পড়েছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজেট নিয়মের সদস্য হিসেবে বেলজিয়ামের সরকার ঋণ কমানোর মূল্য স্বাস্থ্যের মতো সরকারি সেবা ও ভ্যাটের ওপর চাপিয়েছে, উচ্চ আয়ের মানুষদের দিকে না গিয়ে। লক্ষ লক্ষ মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছেন, লিয়েজে জনসমাবেশ নিষিদ্ধ হয়েছে, এবং মুখোশধারী যুবকরা রাস্তায় দাঙ্গা-পুলিশের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছেন — সঙ্কোচন নীতির সেই সব 'বিমূর্ত সংখ্যা' রাস্তায় এসে দৃশ্যমান সংঘাতে রূপ নিচ্ছে।
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। আলোচনা শুরু করুন।