ভারতের নয়াদিল্লিতে বিশাল বিক্ষোভ: ভোটার তালিকা পরিষ্কারে ১৩ কোটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত, পুলিশ প্রায় ৬,০০০ জনকে আটক
এনপিআর-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের নির্বাচন কমিশন দেশের প্রায় ৯৮ কোটি নিবন্ধিত ভোটারের মধ্যে থেকে প্রায় ১৩ কোটি নাম মুছে ফেলেছে বা অতিরিক্ত প্রমাণ দাবি করেছে, যা বিশাল বিক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। নয়াদিল্লিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যারিকেড স্থাপন করেছে, ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন করেছে এবং ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন অনুসারে পুলিশ প্রায় ৬,০০০ জনকে আটক করেছে, যাদের মধ্যে বিক্ষোভ নেতা, আইনজীবী ও সাংবাদিকরাও রয়েছেন।
এনপিআর-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির কিছু অংশে লকডাউন জারি করা হয়েছে। ১০ অক্টোবর সহস্রাধিক বিক্ষোভকারী রাস্তায় নামেন জাতীয় ভোটার তালিকার বিশাল সংশোধনের বিরুদ্ধে। নির্দিষ্ট বিক্ষোভস্থলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যারিকেড স্থাপন করে, নয়াদিল্লির কিছু এলাকায় ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন করে এবং ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন অনুসারে প্রায় ৬,০০০ জনকে আটক করে।
এই ভোটার তালিকা সংশোধনের ব্যাপ্তি বিশ্বের নির্বাচনী ইতিহাসে প্রায় অভূতপূর্ব। গত বছর ভারতের নির্বাচন কমিশন ঘোষণা করে যে, মৃত, স্থানান্তরিত বা দীর্ঘদিন অনুপস্থিত ভোটারদের বাদ দিয়ে তালিকা হালনাগাদ করা হবে। ক্ষমতাসীন হিন্দু জাতীয়তাবাদী দল ভারতীয় জনতা পার্টি এই পদক্ষেপকে তথাকথিত অবৈধ অভিবাসীদের দূরীকরণের প্রচেষ্টা হিসেবে উপস্থাপন করে। কিন্তু প্রায় ৯৮ কোটি নিবন্ধিত ভোটারের মধ্যে প্রায় ১৩ কোটি নাম মুছে ফেলা হয়েছে বা মুছে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়েছে।
এই মামলায় প্রতিনিধিত্বকারী ও বিশেষ তালিকা সংশোধনের বিরোধী আইনজীবী কৌস্তুভ চাতুর্বেদী এনপিআরকে বলেন: "এত বিশাল ব্যবধানে, এটি ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ভোটাধিকার বঞ্চনার ঘটনা।"
সমালোচকরা অভিযোগ করেন যে, মোদি সরকার মূলত মুসলিম সংখ্যালঘু এবং ক্ষমতাসীন দলকে সমর্থন করার সম্ভাবনা কম এমন গোষ্ঠীগুলোকে লক্ষ্য করে প্রশাসনিক মাধ্যমে তাদের ভোটাধিকার পদ্ধতিগতভাবে খর্ব করছে। নির্বাচন কমিশন একটি বিবৃতি প্রকাশ করে জানিয়েছে যে তাদের সবকিছুই আইনসঙ্গত এবং স্থানীয় কর্মকর্তাদের ভুলভাবে মুছে ফেলা ভোটারদের যাচাই করতে বলেছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নিজে এখনও এ বিষয়ে মন্তব্য করেননি। বিক্ষোভকারীরা তাঁকে পুলিশের আড়ালে লুকানোর অভিযোগ করেন এবং নির্বাচন কমিশনের প্রধান কমিশনারের পদত্যাগ দাবি করেন।
বিক্ষোভের জোয়ারের মুখে সরকারের প্রতিক্রিয়া হলো সর্বাত্মক দমন-পীড়ন। এনপিআর-এর সাংবাদিক দিয়া হাদিদ নয়াদিল্লি থেকে জানাচ্ছেন যে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নির্দিষ্ট বিক্ষোভস্থলের চারপাশে ব্যারিকেড স্থাপন করেছে, শহরের কিছু এলাকায় ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন করেছে এবং স্পিকারের মাধ্যমে বারবার সতর্কতা প্রচার করছে: "দয়া করে লক্ষ্য করুন, দয়া করে লক্ষ্য করুন, এখানে জমায়েত অনুমোদিত নয়।"
তা সত্ত্বেও, তরুণ-নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন স্থানে ক্রমাগত আবির্ভূত হচ্ছেন, আর পুলিশ ধারাবাহিকভাবে আটক অভিযান চালাচ্ছে। আটককৃতদের মধ্যে রয়েছেন বিমান থেকে নামার পরপরই আসন থেকে তুলে নেওয়া বিক্ষোভ নেতা এবং কয়েক ডজন আইনজীবী ও সাংবাদিক। নিরাপত্তার কারণে দীপাঙ্কুর ছদ্মনামে পরিচয় গোপন রাখা এক আইনজীবী একটি আদালতে লুকিয়ে থেকে এনপিআরকে বলেন: "আমি এত বিশাল আকারে আইনজীবীদের আটকের ঘটনা কখনও লক্ষ্য করিনি। এটি অভূতপূর্ব।"
গ্রেপ্তারকৃত অনেককে একটি স্টেডিয়ামে নিয়ে যাওয়া হয়, যেটিকে পুলিশ অস্থায়ী আটক কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করছে। এনপিআর জানিয়েছে যে, পুলিশ সাংবাদিকদেরও আটক করেছে এবং একটি মোড়ে সরকারবিরোধী শ্লোগান দেওয়ার অভিযোগে এক যুবকের দিকে ছুটে যাওয়া সশস্ত্র পুলিশের দলকে দেখেছে।
বিকেলের দিকে বিক্ষোভকারীরা শেষ পর্যন্ত একটি সেতুতে জড়ো হয়ে "দিল্লি আমাদের সবার" এবং ভারতীয় বামপন্থী শ্লোগান দেন।
১৩ কোটি এই সংখ্যাটি সম্পর্কে, সরাসরি মুছে ফেলা ও অতিরিক্ত প্রমাণ দাবিকৃতদের মধ্যে সুনির্দিষ্ট অনুপাত, এবং আটককৃতদের পরবর্তী ব্যবস্থাপনা — এই দুটিই বর্তমান প্রতিবেদনে অস্পষ্ট রয়ে গেছে।
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। আলোচনা শুরু করুন।