ক্ষমতা ও রাজনীতি

ট্রাম্প বললেন হুথিদের বিরুদ্ধে হস্তক্ষেপের কথা "বিবেচনা" করছেন — অথচ মার্কিন বাহিনী ইতোমধ্যে গোয়েন্দা ও লক্ষ্যচিহ্নিতকরণে নিয়োজিত

রিয়াদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এক সপ্তাহের মধ্যে পরপর আক্রান্ত হয়েছে। এপির প্রতিবেদন অনুযায়ী এবং এনপিআর-এ পুনঃপ্রকাশিত, সৌদি-নেতৃত্বাধীন জোটের বিরুদ্ধে হুথিদের অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে গোয়েন্দা তথ্য ভাগাভাগি, লক্ষ্যচিহ্নিতকরণ ও আক্রমণ পরিকল্পনায় অংশ নিচ্ছে — যাকে "হস্তক্ষেপ বিবেচনা" বলা হচ্ছে তা আসলে আরও গভীরতর সম্পৃক্ততার আরেকটি পদক্ষেপ; এদিকে সৌদির আকাশ-প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ প্রায় শেষের দিকে এবং বিভিন্ন দেশকে প্রতিরক্ষা মোতায়েনের অনুরোধ জানানো হয়েছে, বেসামরিক বিমান চলাচল ও

0 বার দেখা হয়েছেসংরক্ষণ করতে প্রবেশ করুন
TRUTH ERA

সৌদি রাজধানী রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এই শনিবার আবারও আক্রান্ত হয়েছে — একটি ক্ষেপণাস্ত্র ৩ ও ৪ নম্বর দেশীয় টার্মিনাল এলাকায় আঘাত হেনেছে, এতে একাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। এপির প্রতিবেদন অনুযায়ী এবং এনপিআর-এ পুনঃপ্রকাশিত, সৌদি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ মধ্যরাত পর্যন্ত বিমানবন্দরের কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করেছে, হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও মূল্যায়নাধীন।

এটি সৌদির বেসামরিক বিমান পরিবহন অবকাঠামোর ওপর চলমান ধারাবাহিক হামলার অংশ। হুথিরা এই সপ্তাহের শুরুতে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার দায় স্বীকার করেছিল, যেখানে তিনজন সৌদি নাগরিক নিহত হয়েছিলেন, যাদের মধ্যে একজন পাইলটও ছিলেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুইজন আঞ্চলিক কর্মকর্তা এপিকে জানিয়েছেন, হুথিদের বৃহস্পতিবার রিয়াদ বিমানবন্দরে চালানো হামলায় তিনটি বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে; সৌদির জাতীয় বিমান সংস্থা নিশ্চিত করেছে যে তাদের একটি যাত্রীবিহীন, ভূমিতে অবস্থানরত বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইয়েমেনের হুথি বাহিনীর বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপে মার্কিন সম্পৃক্ততার বিষয়ে জবাব দিয়ে বলেছেন: "আমরা হয়তো সম্পৃক্ত হব। আমরা বিষয়টি পরীক্ষা করব। আমরা এইমাত্র সর্বশেষ হামলার খবর পেয়েছি। তাই আমরা একটি সিদ্ধান্ত নেব। আমরা অত্যন্ত দ্রুত পদক্ষেপ নিই।"

তবে "হস্তক্ষেপ বিবেচনা"-র এই ভাষ্য, মার্কিন পক্ষের যুদ্ধক্ষেত্রে প্রকৃত ভূমিকার সঙ্গে স্পষ্ট ব্যবধান প্রদর্শন করে। এপির প্রতিবেদন অনুযায়ী এবং এনপিআর-এ পুনঃপ্রকাশিত, সৌদি-নেতৃত্বাধীন জোটকে মার্কিন সহায়তার মধ্যে "গোয়েন্দা তথ্য ভাগাভাগি, লক্ষ্যচিহ্নিতকরণ এবং হুথিদের সাম্প্রতিক অভিযানের বিরুদ্ধে পরিকল্পনা" অন্তর্ভুক্ত ছিল। ট্রাম্প চূড়ান্তভাবে সরাসরি অংশগ্রহণের ঘোষণা দিন বা না দিন, মার্কিন পক্ষ ইতোমধ্যে এই সামরিক শৃঙ্খলের একটি মূল সংযোগস্থলে — গোয়েন্দা ও লক্ষ্য-নির্ধারণে — ভূমিকা রাখছে — "বিষয়টি পরীক্ষা করা"র অঙ্গভঙ্গিতে ফুটে ওঠা পর্যবেক্ষকের ভূমিকা বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খায় না।

সৌদি নিজেই অস্ত্র-মজুদ সংকটে। এপির গত মাসের প্রতিবেদন অনুযায়ী এবং এনপিআর-এ পুনঃপ্রকাশিত, সৌদি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে তাদের আকাশ-প্রতিরক্ষা বাধাদানকারী ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ প্রায় শেষ হয়ে আসছে এবং ফ্রান্স, ব্রিটেন, পাকিস্তান ও মিশরকে অঞ্চলটিতে আকাশ-প্রতিরক্ষা সহায়তা মোতায়েনের অনুরোধ জানিয়েছেন। একজন কর্মকর্তা আরও জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব মজুদও ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে ক্ষয় হয়েছে। সৌদির বহু বছরের সামরিকীকরণের মূল্য, এবং বিমান-প্রতিরক্ষার চাপ আরও বেশি দেশের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ার চিত্র — এখান থেকেই স্পষ্ট।

বেসামরিক বিমান চলাচল ও বৈশ্বিক বাজার সরাসরি আঘাত পাচ্ছে। ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট FlightAware-এর তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় রিয়াদ বিমানবন্দর থেকে কমপক্ষে ২৯১টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। সর্বশেষ হামলার আগেই এয়ার ইন্ডিয়া, FlyDubai, লুফথানসা গ্রুপ এবং পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইনস রিয়াদ ও অন্যান্য সৌদি বিমানবন্দরে যাতায়াতের ফ্লাইট স্থগিত ঘোষণা করেছিল।

যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া ও কানাডা ইতোমধ্যে তাদের নিজ নিজ নাগরিকদের এই বিমানবন্দর এড়িয়ে চলার সতর্কতা জারি করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের এভিয়েশন সেফটি এজেন্সি (EASA) সৌদি আকাশসীমার জন্য নির্দেশনা সম্প্রসারণ করে সতর্ক করেছে যে, হুথিরা ইতোমধ্যে সৌদি ভূখণ্ডের গভীরে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানানোর সক্ষমতা অর্জন করেছে এবং "বিমান পরিবহন অবকাঠামোর প্রতি আরও বেশি মনোযোগী"। সংস্থাটি সতর্ক করেছে যে, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা এবং বাধাদানমূলক কার্যক্রম "বেসামরিক বিমানকে ভুলভাবে চিহ্নিত হওয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে" — এটি বেসামরিক বিমান চলাচলকে সংঘাতক্ষেত্রে টেনে আনার একটি সুস্পষ্ট সংকেত।

বিশ্বের বৃহত্তম তেল রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে সৌদি আরবের ওপর এই হামলা ইতোমধ্যে বাজার ও অঞ্চলজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। তবে সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয় কয়েক ঘণ্টা আগেও রিয়াদে রোববার উদ্বোধনের জন্য নির্ধারিত একটি বড় আন্তর্জাতিক জ্বালানি সম্মেলনের প্রচার চালাচ্ছিল — কূটনৈতিক ও বাণিজ্য কর্মসূচির সঙ্গে প্রকৃত সংঘাতের টানাপোড়েন এখানে চোখে পড়ার মতো।

সামরিক অভিযানের উত্তেজনার মধ্যেই সৌদি আরব শনিবার জানিয়েছে যে, তাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন এবং "আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনে কূটনৈতিক সমাধানের" সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন। হরমুজ প্রণালীর ওপারে ইরানের সঙ্গে সীমান্ত ভাগাভাগিকারী ওমান অতীতেও অঞ্চলটিতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে। তবে এই কূটনৈতিক বিবৃতি একই সময়ে চলমান সামরিক অভিযানের পাশাপাশি এগোচ্ছে — আলোচনা এখনও সংঘাতের গতিপ্রকৃতি সত্যিকারভাবে উল্টে দিতে পারেনি।

হুথিরা এই সপ্তাহে "সর্বশেষবারের মতো" বিশ্বের বিমান সংস্থাগুলোকে সৌদি আকাশসীমায় চলাচল না করার সতর্কবার্তা দিয়েছে এবং সৌদি আকাশসীমাকে সামরিক অভিযানের রণক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করেছে। হুথিরা পূর্বে এপিকে বলেছিল, সৌদির ওপর তাদের অবরোধের প্রতিশোধ হিসেবে তারা শুধুমাত্র সৌদি পণ্যবাহী জাহাজকেই লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে — তবে তাদের কর্মপরিধি নিয়ে বাইরের উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে। গাজায় সংঘাত শুরুর পর হুথিরা ফিলিস্তিনিদের সমর্থনে অন্যান্য জাহাজেও হামলা চালিয়েছিল; যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী বোমা হামলা এই ধরনের হামলা উল্লেখযোগ্যভাবে সংযম করতে সক্ষম হয়েছিল।

সৌদি কর্তৃপক্ষ এই সপ্তাহে জনসাধারণকে সতর্ক করেছে যে, "বাধাদানকারী ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন এবং তাদের আঘাতের এলাকা সম্পর্কিত তথ্য ধারণ করা, প্রকাশ করা বা শেয়ার করা আপনাকে আইনগত দায়বদ্ধতার মুখে ফেলবে"। এই তথ্য-নিয়ন্ত্রণ নির্দেশনা, বিমানবন্দরে সদ্য বাড়ানো নিরাপত্তা জনবল, প্রবেশপথগুলোর অবরোধ এবং আলোকসজ্জা ম্লান করার মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি — মিলিয়ে এই সংঘাতের ওপর জনমানসে পর্যালোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলার পথে অতিরিক্ত বাধা তৈরি হচ্ছে।

হুথিদের ও সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেন সরকারি বাহিনীর মধ্যকার লড়াই উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। সৌদি-নেতৃত্বাধীন জোট বিমান হামলায় সমর্থন দিচ্ছে, লোহিত সাগরের উপকূলে হুথিদের সাম্প্রতিক অগ্রগতি ঠেকানোর চেষ্টা করছে। এই অগ্রগতি হুথিদের হরমুজ প্রণালীর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প পথের ওপর — যেখানে ইরান জাহাজে হামলা চালাচ্ছে — পণ্যবাহী চলাচলের ওপর আরও ভালো নজরদারির সক্ষমতা দিয়েছে।

মন্তব্য

0

এখনও কোনো মন্তব্য নেই। আলোচনা শুরু করুন।