নেপালের গোর্খা জেলায় আবার বন্যা, দেড় মাসের ব্যবধানে দ্বিতীয় বিধ্বংসী বন্যায় কার্বন নিঃসরণ প্রায় শূন্য পার্বত্য দেশ
নেপালের গোর্খা জেলায় বুদিগন্দকী নদীতে আকস্মিক বন্যায় সালেরি, জগৎ প্রভৃতি বসতি ভেসে গেছে, ৪৫টি বাড়ি সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেতু ও নির্মাণাধীন জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র ধ্বংস হয়েছে, ৮২ জন উদ্ধার পেয়েছেন, ৫ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। এটি দেশটিতে দেড় মাসের ব্যবধানে দ্বিতীয় বিধ্বংসী বন্যা, যা বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণ সবচেয়ে কম এমন পার্বত্য দেশটির জলবায়ু মূল্য বারবার বহনের কাঠামোগত ভারসাম্যহীনতা তুলে ধরেছে।
নেপালের গোর্খা জেলায় বুদিগন্দকী নদীতে রবিবার আকস্মিক বন্যায় উপকূলবর্তী সালেরি বাজার, জগৎ বাজার, ধোয়ান ও ঘাটকোলা প্রভৃতি বসতি ভেসে গেছে — এটি এই পার্বত্য দেশটিতে দেড় মাসের ব্যবধানে দ্বিতীয় বিধ্বংসী বন্যা, এবং বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণ সবচেয়ে কম দেশটিকে আবারও জলবায়ু মূল্য বহনের অবস্থানে ঠেলে দিয়েছে।
ইন্ডিয়ান টাইমস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কমিশন (এনডিআরআরএমএ) প্রাথমিক হিসাবে জানিয়েছে, বন্যায় ৪৫টি বাড়ি সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত এবং ২৭টি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, দুটি ঝুলন্ত সেতু, দুটি চলাচলযোগ্য সেতু, তিনটি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্প ও ৩৪টি পশুখামার ক্ষতিগ্রস্ত বা ভেসে গেছে, তিনটি গাড়ি বন্যার স্রোতে ভেসে গেছে। পিটিআই জানিয়েছে ৫ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন, এনডিআরআরএমএ জানিয়েছে নিখোঁজদের মধ্যে দুজন নারী রয়েছেন।
আন্তর্জাতিক পার্বত্য উন্নয়ন কেন্দ্র (আইসিআইএমওডি) নেপাল কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক প্রতিবেদন উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, বন্যা গোর্খা জেলার চোঁচেতের কাছে ভূমিধসের ফলে গঠিত অস্থায়ী বাঁধ ভেঙে যাওয়ার কারণে হতে পারে। তবে, বন্যার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও নেপাল কর্তৃপক্ষের পাঠানো ভূতাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞ দল এবং ড্রোন তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া বাকি রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা সংবাদ সংস্থাকে জানিয়েছেন, বন্যার সময় সেখানে বৃষ্টি হচ্ছিল না এবং নদীর প্রবাহ কিছুক্ষণের জন্য থেমে ফের শুরু হয়েছিল।
অবকাঠামো ক্ষয়ক্ষতির তালিকা ক্রমশ দীর্ঘ হচ্ছে। বুদিগন্দকী জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের নির্মাণস্থলের প্রধান শিবির ও সরঞ্জাম ভেসে গেছে, দুটি যোগাযোগ টাওয়ার এবং ৫০টি বিদ্যুতের খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, নিম্ন মাচিকোলা এলাকায় ২০ থেকে ২২টি বাড়ি সরাসরি হুমকির মুখে রয়েছে। নিয়াকচেত ও ফিলিমবাজার, আরুঘাট ও দাদিং, নিয়াকচেত ও শিরদীবাসের সংযোগকারী সেতু, এবং মাচিকোলা—কাইলৌজা পায়ে হেঁটে চলার সেতু ও সোতিমা সেতু সবই বন্যায় ভেসে গেছে বা গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
নেপাল কর্তৃপক্ষ চারটি হেলিকপ্টার ও ৭০০-এরও বেশি নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে, যার মধ্যে ১৭১ জন নেপালি সেনা সদস্য এবং এনডিআরআরএমএ-র সমন্বয়ে ৪৩৭ জন সেনা ও পুলিশ কর্মী রয়েছেন। নেপালি সেনাবাহিনী প্রথমে ৬ জন আটকে পড়া বাসিন্দাকে সরিয়ে নেয়, পরে সংখ্যাটি ৩৬-এ আপডেট করে; প্রতিবেদন প্রকাশের সময় ৮২ জন উদ্ধার পেয়েছেন, যাদের মধ্যে ৯ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন, এবং ৫ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। নেপালের প্রধানমন্ত্রী বরেন্দ্র শাহ নেপালি সেনাবাহিনীকে বায়ু ও স্থলপথে সমান্তরালভাবে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অগ্রগামী করার নির্দেশ দিয়েছেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদন গুরুং উপকূলবর্তী বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। মনাস্লু ট্রেকিং পথে বিদেশি পর্যটকেরা পায়ে হেঁটে চলার সেতু ও পথ ভেসে যাওয়ায় আটকে রয়েছেন, স্থানীয় সংরক্ষিত এলাকা ব্যবস্থাপনা বিভাগ জানিয়েছে পর্যটকেরা তাদের আবাসস্থলে নিরাপদে রয়েছেন, তবে সুনির্দিষ্ট সংখ্যা ও সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা এখনও প্রকাশ করা হয়নি। কর্তৃপক্ষ জরুরি বেইলি সেতু স্থাপনের সম্ভাব্যতা মূল্যায়ন করছে।
নিম্নগামী দিকে, ভারতের বিহার সরকার ভাল্মিকীনগর বাঁধে নজরদারি শুরু করেছে। উপ-মুখ্যমন্ত্রী বিজয় কুমার চৌধুরী জানিয়েছেন, বন্যার শিখর দেগঘাট অতিক্রম করেছে, বাঁধ থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরে, প্রবাহ প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ১৫,০০০ ঘনফুট বৃদ্ধির পর স্বাভাবিক মাত্রায় ফিরে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে, এবং বাঁধে উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়বে না।
এটি দেড় মাসের ব্যবধানে নেপালে দ্বিতীয় বিধ্বংসী বন্যা। ২৬ আগস্ট ভোদেকোশী ও ত্রিসূলী নদীর ভয়াবহ বন্যায় ১,৪০০-এরও বেশি মানুষ নিহত এবং ৫,২৮৫ জন নিখোঁজ হয়েছিলেন, নেপালের পুনরুদ্ধার এখনও অনেক দূরে। নেপালের বার্ষিক কার্বন নিঃসরণ বৈশ্বিক মোটের তুলনায় প্রায় উপেক্ষনীয়, অথচ হিমালয় অঞ্চলের হিমবাহের পশ্চাদপসরণ ও অস্থিতিশীল ঢাল বৃদ্ধি এই সবচেয়ে কম নিঃসরণকারী অঞ্চলটিকে ক্রমাগত দুর্যোগের মূল্য বহনকারী করে তুলছে — একই কাঠামোগত ভারসাম্যহীনতা একটি গ্রীষ্মকালে দুটি বন্যায় বারবার প্রমাণিত হলো।
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। আলোচনা শুরু করুন।