রিয়াদ বিমানবন্দরে ধারাবাহিক হামলা; পাকিস্তানি প্রবাসী শ্রমিকের মৃত্যু ইয়েমেন সংঘাতের বিস্তৃত মূল্যের প্রকাশ
সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হুথি বাহিনীর রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দ্বিতীয় হামলায় একজন পাকিস্তানি নাগরিক নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন; এর আগের দিনের হামলায় ১২ জন নিহত ও ৩০০-এর বেশি মানুষ আহত হয়েছিলেন। ইয়েমেন সংঘাতের ক্রমবর্ধমান বিস্তার ও সৌদি আরবে দীর্ঘদিনের প্রবাসী শ্রমিক-নির্ভর কাঠামোর মধ্যে, বেসামরিক অবকাঠামো ও বিদেশে জীবিকা অর্জনকারী শ্রমিকরা সেই ঝুঁকির মূল্য দিতে থাকছেন যা সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের বহন করা উচিত ছিল।
সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথি বাহিনীর পরিচালিত দ্বিতীয় হামলায় একজন পাকিস্তানি নাগরিক নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।
আল জাজিরার সাংবাদিক মালিক ত্রাইনা জানিয়েছেন, হামলাটি রোববার সংঘটিত হয়েছে। একই দিনে কিছুক্ষণ আগেই বিমানবন্দরটিতে একটি হামলা হয়েছিল, যাতে ১২ জন নিহত ও ৩০০-এর বেশি মানুষ আহত হন।
দ্বিতীয় হামলার দায়িত্ব হুথি বাহিনী সরাসরি গ্রহণ করেছে—এমন প্রতিবেদন এখনও প্রকাশ্যে আসেনি; ‘হুথি বাহিনী হামলা চালিয়েছে’—এই চিহ্নিতকরণ এসেছে সৌদি কর্তৃপক্ষের বক্তব্য থেকে। ওই দিনের হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্রের ধরন, সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি এবং দ্বিতীয় হামলায় আহতদের বিস্তারিত তথ্যও প্রকাশ করা হয়নি।
নিহত পাকিস্তানি ব্যক্তি সৌদি আরবে বসবাসকারী কয়েক মিলিয়ন প্রবাসী শ্রমিকের একজন। সৌদি অর্থনৈতিক কাঠামোয় পাকিস্তান, ভারত, বাংলাদেশ, ফিলিপাইনসহ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর শ্রমিকরা দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণ, পরিচ্ছন্নতা ও সেবা খাতের প্রাথমিক কর্মকাণ্ড পালন করে আসছেন; তাঁরা সাধারণত নিজ দেশের কূটনৈতিক ও বিচার বিভাগীয় সুরক্ষা নেটওয়ার্ক থেকে দূরে থাকেন। বেসামরিক অবকাঠামো যখন হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়, তখন হতাহতের তালিকায় সাধারণত কূটনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের নয়, বরং বিদেশে জীবিকা অন্বেষণকারী সাধারণ শ্রমিকদের নাম উঠে আসে।
রিয়াদ বিমানবন্দরে টানা দুই দিনের হামলা ইয়েমেন সংঘাতের বিস্তারের সর্বশেষ প্রকাশ। ২০১৫ সাল থেকে সৌদি আরবের নেতৃত্বে এবং পশ্চিমা দেশগুলোর সামরিক ও গোয়েন্দা সমর্থনপুষ্ট বহুজাতিক জোট যখন ইয়েমেন যুদ্ধে হস্তক্ষেপ করেছে, তখন থেকে সৌদি ভূখণ্ডের লক্ষ্যবস্তুতে সীমান্ত-অতিক্রমকারী হামলা এবং জোটের ইয়েমেনভিত্তিক বিমান হামলা—এই দুটি ক্রমাগত পারস্পরিক গোলাগুলির চক্র তৈরি করেছে। রাজনৈতিক ও সামরিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্তরে মেটানো উচিত এমন ঝুঁকি বারবার বেসামরিক বিমানবন্দর, জ্বালানি স্থাপনা ও প্রবাসী শ্রমিকদের বাসস্থানের মতো যুদ্ধের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই এমন স্থানে ছড়িয়ে পড়ছে—যুদ্ধ শুরু ও তীব্রতর করার রাজনৈতিক-সামরিক সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীরা কখনোই এর বাইরে থাকছেন না, আর এর মূল্য সবসময়ই বহন করছেন সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কহীন সাধারণ জনগণ।
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। আলোচনা শুরু করুন।