ক্ষমতা ও রাজনীতি

দশ বছর পর স্বীকার: ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী প্রথমবার রাশিয়ার ২০১৬ ব্রেক্সিট হস্তক্ষেপ স্বীকার করলেন

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম একটি পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন যে রাশিয়া ২০১৬ সালের ব্রেক্সিট গণভোটে হস্তক্ষেপ করেছিল, তবে কোনো প্রমাণ বা নির্দিষ্ট বিবরণ দেননি। সংসদের গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা কমিটির ২০২০ সালের প্রতিবেদনে ইতিমধ্যে উল্লেখ করা হয়েছিল যে ব্রিটিশ সরকার ওই সময়ে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের বিষয়ে গভীর মূল্যায়নের অনুরোধ করেনি — এই বিলম্বিত স্বীকারোক্তি একদিকে ঐতিহাসিক দায়িত্বে অবহেলার সংশোধন, অন্যদিকে পশ্চিমা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার বাহ্যিক হস্তক্ষে

0 বার দেখা হয়েছেসংরক্ষণ করতে প্রবেশ করুন
TRUTH ERA

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম রবিবার প্রকাশিত "The Rest Is Politics" পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে জানান, ডাউনিং স্ট্রিটে তাঁর আসীন হওয়ার পর থেকে তিনি ২০১৬ সালের ব্রেক্সিট গণভোটে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ হয়েছিল কি না সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন এবং "সুনির্দিষ্ট ইতিবাচক উত্তর" পেয়েছেন।

আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এটিই প্রথমবারের মতো কোনো ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর প্রকাশ্যে স্বীকার করা যে রাশিয়া ২০১৬ সালের ব্রেক্সিট গণভোটে হস্তক্ষেপ করেছিল। তবে বার্নহ্যাম এই দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ বা নির্দিষ্ট বিবরণ দেননি — তাঁর ভিত্তি হিসেবে উল্লেখিত "সুনির্দিষ্ট উত্তর" কোন গোয়েন্দা মূল্যায়ন থেকে এসেছে, মূল্যায়নের পরিধি ও বিষয়বস্তু কী ছিল, তা এখনও জনসাধারণের কাছে প্রকাশ করা হয়নি।

আকর্ষণীয় বিষয় হলো, ব্রিটিশ সংসদের গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা কমিটি ২০২০ সালেই একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে উল্লেখ করেছিল যে ব্রিটিশ সরকার ওই সময়ে ২০১৬ সালের গণভোটে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের বিষয়ে গভীর মূল্যায়নের অনুরোধ করেনি। ওই প্রতিবেদনে একই সাথে নিশ্চিত করা হয়েছিল যে রাশিয়া ২০১৪ সালের স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতা গণভোটেও হস্তক্ষেপ করেছিল। অন্যভাবে বলতে গেলে: গণভোটের বছরেই সক্রিয়ভাবে তদন্তের আবেদন করা উচিত ছিল এমন একটি বিষয় দশ বছর ধরে ঝুলিয়ে রেখে অবশেষে প্রধানমন্ত্রী একটি পডকাস্ট অনুষ্ঠানে প্রথমবারের মতো স্বীকার করলেন।

বার্নহ্যাম সাক্ষাৎকারে বলেন: "এই বিষয়গুলো এখন গুরুত্বপূর্ণ, এগুলো স্পষ্টভাবে রেকর্ডে থাকা উচিত, এবং আমি বিশ্বাস করি এটি জার্মানি ও ফ্রান্সের ভোটারদের বোঝাতে সাহায্য করবে যে এই রাজনৈতিক কার্যকলাপের একটি অংশ আমাদের শত্রু — অর্থাৎ রাশিয়া — দ্বারা উসকে দেওয়া হয়েছিল।" গত সপ্তাহে বার্লিনে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মেরৎস-এর সাথে সাক্ষাতের সময়ও তিনি রাশিয়া এবং জার্মান ডানপন্থী দল জার্মানির বিকল্প (AfD)-এর মধ্যে সম্ভাব্য যোগাযোগের বিষয়ে আলোচনা করেছেন।

আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাশিয়ার পক্ষ থেকে অবশ্য পশ্চিমা গণতন্ত্র বা অন্যান্য দেশের নির্বাচন ও গণভোটে হস্তক্ষেপের অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে এবং বলা হয়েছে যে ব্রিটেন "রাশিয়াবিরোধী হিস্টেরিয়া"তে আক্রান্ত।

বৃহত্তর রাজনৈতিক কর্মসূচিতে, বার্নহ্যাম গত মাসে আরও প্রস্তাব করেছিলেন যে ব্রিটেনের ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে সম্পর্ক পুনর্বিবেচনা করা উচিত, যার মধ্যে এই জোটে পুনরায় যোগদানও রয়েছে, যুক্তি হিসেবে বলে যে ব্রেক্সিট "নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়া"র প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে পারেনি, বরং ব্রিটেনকে অর্থনীতি ও অভিবাসনের ক্ষেত্রে আরও দুর্বল করে তুলেছে।

বার্নহ্যামের এই বক্তব্য বিলম্বিত স্বীকারোক্তিকে জার্মানির বিকল্প (AfD) প্রসঙ্গের সাথে সংযুক্ত করেছে, যার উদ্দেশ্য হলো ইউরোপে আসন্ন নির্বাচনী চক্রকে প্রভাবিত করা। কিন্তু ২০২০ সালের সংসদীয় গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা কমিটির প্রতিবেদন থেকে ২০২৬ সালের প্রকাশ্য স্বীকারোক্তি পর্যন্ত, এই দশকে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ বিষয়ক অভ্যন্তরীণ বিশ্লেষণ, প্রকাশ্য প্রকাশনা ও জবাবদিহিতা প্রক্রিয়া এখনও অসম্পূর্ণ — বিলম্বিত এই স্বীকারোক্তি সারমর্মিক তদন্ত, ভোটারদের জানার অধিকারের প্রতিকার এবং প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতার দায় নির্ধারণে কতটা এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে, তা এখনও অমীমাংসিত প্রশ্ন।

মন্তব্য

0

এখনও কোনো মন্তব্য নেই। আলোচনা শুরু করুন।