ক্ষমতা ও রাজনীতি

ভারতের সুপ্রিম কোর্ট গণগ্রেপ্তারকে 'অবৈধ' বলে রায় দিয়েছে, ভোটার তালিকা বিতর্ক অব্যাহত

ভারতের সুপ্রিম কোর্ট গত সপ্তাহান্তে কয়েকশো বিক্ষোরকের গ্রেপ্তারকে আংশিকভাবে "অবৈধ" বলে রায় দিয়েছে; এর আগে কর্তৃপক্ষ প্রায় ৪০,০০০ নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করেছিল এবং নয়াদিল্লির কিছু অংশে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছিল। বিরোধী দলগুলো নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকা থেকে লক্ষ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ এনেছে; বাদ দেওয়া কেন্দ্রীভূত হয়েছে ক্ষমতাসীন বিজেপির রাজনৈতিকভাবে অনুকূল নয় এমন এলাকাগুলোতে।

0 বার দেখা হয়েছেসংরক্ষণ করতে প্রবেশ করুন
TRUTH ERA

ভারতের সুপ্রিম কোর্ট গত সপ্তাহান্তে কয়েকশো বিক্ষোরকের গ্রেপ্তারকে আংশিকভাবে "অবৈধ" বলে রায় দিয়েছে। দ্য হিন্দু পত্রিকার প্রথম পাতার খবর অনুযায়ী, এই রায় লক্ষ্য করেছে দেশব্যাপী বিক্ষোভের ঢেউয়ে আটক বিক্ষোরকদের। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকা থেকে লক্ষ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ এই বিক্ষোভের মূল বিষয়।

ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের খবর অনুযায়ী, বিরোধী দলগুলো নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছে যে সাম্প্রতিক ভোটার তালিকা হালনাগাদে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)-র রাজনৈতিকভাবে অনুকূল নয় এমন এলাকাগুলোতে লক্ষ লক্ষ ভোটারের নাম ইচ্ছাকৃতভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে, ফলে এই ভোটারদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার সুনির্দিষ্ট পরিসর ও আঞ্চলিক বিন্যাস এখনো স্পষ্ট নয়, বিরোধী দলের অভিযোগগুলো এখনো স্বাধীন তদন্ত সাপেক্ষ।

হিন্দুস্তান টাইমসের খবর অনুযায়ী, সপ্তাহান্তের বিক্ষোভ মোকাবেলায় ভারতীয় কর্তৃপক্ষ প্রায় ৪০,০০০ নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করেছে। নিউ ইয়র্ক টাইমসের খবর অনুযায়ী, নয়াদিল্লির মধ্যাঞ্চলে একই সময়ে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়, কিন্তু জেড প্রজন্মের বিক্ষোরকরা সামাজিক মাধ্যমে কর্তৃপক্ষের দমন-পীড়নের ছবি ছড়িয়ে দিতে সক্ষম হয়।

ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের খবর অনুযায়ী, নিজেকে "ককরোচ জনতা পার্টি" (Cockroach Janta Party) বলে পরিচয় দেওয়া একটি সংগঠনের - যার নাম ও প্রতিষ্ঠাতা সর্বসাধারণের তথ্যে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব নয় - একজন উচ্চপদস্থ নেতাকে সপ্তাহান্তে গ্রেপ্তার করা হয় এবং শুধুমাত্র আদালতের আদেশের পরেই মুক্তি দেওয়া হয়। ওই পত্রিকা সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকের বক্তব্য উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, মুক্তির পর তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে "এই দেশে কখনো দেখা সবচেয়ে বড় কাপুরে" ("the biggest coward this country has ever seen") বলে অভিহিত করেন এবং ভোটার তালিকা বিতর্কের পর বিক্ষোভ আরও তীব্র করার প্রতিশ্রুতি দেন।

নিউ ইয়র্ক টাইমসের খবর অনুযায়ী, এই দমন-পীড়নের ঘটনা মোদীর স্বাভাবিক কৌশলের সীমাবদ্ধতা প্রকাশ করেছে - একাধিক রাস্তা অবরোধ ও ইন্টারনেট বিচ্ছিন্নতা সত্ত্বেও বিক্ষোরকরা তথ্য অবরোধ ভাঙতে সক্ষম হয়েছে। কিন্তু ভোটার তালিকা বিতর্কের মূল অভিযোগ - যে লক্ষ লক্ষ ভোটারকে পদ্ধতিগতভাবে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে - এখনো স্বাধীন তদন্ত সাপেক্ষ।

মন্তব্য

0

এখনও কোনো মন্তব্য নেই। আলোচনা শুরু করুন।