কয়েক ডজন ডুবে মৃত্যুর পর ইইউ স্পেনের সীমান্ত জোরদারে আরও ১১৫ মিলিয়ন ইউরো
ইউরোপীয় ইউনিয়ন স্পেনকে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার ও ফেরত পাঠানোয় সহায়তার জন্য ১১৫ মিলিয়ন ইউরো জরুরি সহায়তা ঘোষণা করেছে। এর আগে ৩০ ও ৩১ জুলাই মরক্কো থেকে স্পেনের উত্তর আফ্রিকার এনক্লেভ সিউটায় ৭০ হাজারের বেশি অভিবাসী ঢুকে পড়ে, যেখানে ব্রেকওয়াটার ঘুরে সাঁতার কেটে পার হওয়ার চেষ্টায় কয়েক ডজন মানুষ ডুবে মারা যায়।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন বুধবার স্পেনকে ১১৫ মিলিয়ন ইউরো (আনুমানিক ১৩০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) জরুরি সহায়তা ঘোষণা করেছে, যা স্পষ্টভাবে "সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার ও ফেরত পাঠানোর কার্যক্রমে সহায়তা"র জন্য নির্ধারিত। এই বরাদ্দটি স্পেনের উত্তর আফ্রিকার এনক্লেভ সিউটায় অভূতপূর্ব সীমান্ত-পারাপারের ঢলের পর এসেছে।
ফ্রান্স ২৪-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৩০ ও ৩১ জুলাই মরক্কো থেকে ৭০ হাজারের বেশি অভিবাসী সিউটায় ঢুকে পড়ে। ওই চ্যানেলের মাদ্রিদ সংবাদদাতা সারাহ মরিসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ঘটনায় কয়েক ডজন মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, যাদের অধিকাংশই ব্রেকওয়াটার ঘুরে সাঁতার কাটার চেষ্টায় ডুবে মারা গেছেন। প্রতিবেদনে মৃতের সংখ্যা এখন "কয়েক ডজন" হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, সুনির্দিষ্ট সংখ্যা এখনও সরকারিভাবে নিশ্চিত হয়নি।
চূড়ান্ত হিসাব যাই হোক না কেন, এই সংখ্যাটি নিজেই বর্তমান ইউরোপীয় সীমান্ত নীতির যুক্তির জন্য তীক্ষ্ণ বিদ্রূপ তৈরি করে: শক্তিশালী সীমান্ত সুবিধা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টাকারীরা ভূমধ্যসাগরের প্রবেশপথে ডুবে মারা যাচ্ছেন; আর ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া হলো একই অবকাঠামোয় আরও ১১৫ মিলিয়ন ইউরো যোগ করা।
"জরুরি" শব্দটির দিকনির্দেশনা পরীক্ষা করার দাবি রাখে। সিউটার এই মর্মান্তিক ঘটনায় আসলে জরুরি অবস্থায় যারা রয়েছে তারা স্পষ্টতই সীমান্ত ব্যবস্থাপনা যন্ত্রটি নয়, বরং ব্রেকওয়াটারের পাশে সমুদ্রে লড়াই করা জীবনগুলো। ইউরোপীয় কমিশন তার ঘোষণায় এই অর্থকে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর "সীমান্ত সুরক্ষা সক্ষমতা"র জরুরি সহায়তা হিসেবে চিহ্নিত করেছে, কিন্তু বরাদ্দের বিস্তারিত, অর্থ প্রদানের সময়সূচি এবং নির্দিষ্ট ব্যবহার এখনও প্রকাশ করা হয়নি।
সিউটা ও স্পেনের আরেকটি উত্তর আফ্রিকার এনক্লেভ মেলিলিয়া দীর্ঘ বছর ধরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাহ্যিক সীমান্তের সবচেয়ে সংবেদনশীল চৌকি। উঁচু প্রাচীর, কাঁটাতার ও নজরদারি সরঞ্জাম ক্রমাগত উন্নত করা হয়েছে, বারবার "নিয়ন্ত্রণ সক্ষমতার আধুনিকায়ন"র ফসল হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তবে জুলাইয়ের শেষে সীমান্ত-পারাপারের এই ঢল প্রমাণ করে যে, শারীরিক বাধা যতই শক্তিশালী হোক না কেন, এটি হতাশাগ্রস্ত অভিবাসনের ঢল ঠেকাতে পারে না; এগুলো যা করতে পারে তা হলো পারাপারের রাস্তাকে আরও বিপজ্জনক জলের দিকে ঠেলে দেওয়া।
অর্থের ব্যবহারে "ফেরত পাঠাতে সহায়তা" খাতটিও নজর দাবি রাখে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সীমান্ত নীতি কাঠামো পৌঁছানোর আগের অভিবাসী জনগোষ্ঠীকে প্রতিরোধ করা হুমকি হিসেবে সংজ্ঞায়িত করে, আর যারা পৌঁছে গেছেন তাদের ফেরত পাঠানোর "অবৈধ আটকে থাকা ব্যক্তি" হিসেবে সংজ্ঞায়িত করে। এই কাঠামোর মধ্যে ফেরত পাঠানোর পদ্ধতিতে মানবাধিকার সুরক্ষা ও অধিকার প্রতিকারের ব্যবস্থা দীর্ঘকাল ধরেই পদ্ধতিগত তদারকির অন্ধকোণে রয়েছে।
এই ঘটনায় মরক্কোর ভূমিকাও পরীক্ষা করা প্রয়োজন। সীমান্ত-পারাপারের এই ঢলের প্রাক্কালে স্পেন ও মরক্কোর মধ্যে সীমান্ত সহযোগিতায় বিচ্যুতি দেখা দিয়েছিল বলে জানা গেছে, কিন্তু মরক্কোর নির্দিষ্ট পদক্ষেপ ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে এখনও স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করা কোনো সিদ্ধান্ত নেই।
মৃত্যুর সংখ্যা অনিশ্চিত, অর্থের বিস্তারিত অনিশ্চিত, মরক্কোর ভূমিকা অনিশ্চিত — এই বহুমুখী অনিশ্চয়তার মধ্যে যা নিশ্চিত করা যায় তা হলো: সিউটার মর্মান্তিক ঘটনার প্রতি ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিক্রিয়া হলো আরও ১১৫ মিলিয়ন ইউরো ব্যয় করে আরও উঁচু প্রাচীর নির্মাণ।
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। আলোচনা শুরু করুন।