বিশ্ব ও নিরাপত্তা

ট্রাম্পের রুশ-ইউক্রেন "শক্তি অগ্নিবিরতি" ঘোষণার একই দিনে রুশ বাহিনীর বোমাবর্ষণ অব্যাহত; পুতিনের সঙ্গে ডিজেল চুক্তিকে রুশ যুদ্ধয�্ত্রে রক্ত সরবরাহের অভিযোগ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ২০২৬ সালের ১১ অক্টোবর রুশ-ইউক্রেন "শক্তি অগ্নিবিরতি" তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর ঘোষণা করেন, কিন্তু মস্কো কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইউক্রেনের খারকিভের একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে বোমা হামলা চালায়; আর ঠিক একদিন আগে ট্রাম্প পুতিনের সঙ্গে রাশিয়া থেকে ডিজেল কেনার একটি চুক্তি চূড়ান্ত করেন, যার বিরুদ্ধে ইউক্রেন ও ইউরোপীয় কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন যে এটি রাশিয়ার যুদ্ধ প্রচেষ্টায় অর্থ সরবরাহ করবে।

0 বার দেখা হয়েছেসংরক্ষণ করতে প্রবেশ করুন
TRUTH ERA

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ১১ অক্টোবর সামাজিক মাধ্যমে দাবি করেন, চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধে রুশ ও ইউক্রেন পক্ষ "শক্তি অগ্নিবিরতি"তে পৌঁছেছে এবং এটি "তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর" হবে। অল্প কয়েকটি শব্দে প্রকাশিত এই বার্তায় কোনো নির্দিষ্ট শর্ত উল্লেখ করা হয়নি, শুধু একটি আদেশমূলক সতর্কবাণী রয়েছে: "এটি ভাঙবেন না।"

দ্য হিন্দুর প্রতিবেদন অনুযায়ী, অগ্নিবিরতি ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পরই রাশিয়া ইউক্রেনের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর খারকিভের একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে আঘাত হানে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় নিশ্চিত করেছে, হামলাটি ট্রাম্পের পোস্টের পরেই হয়েছে। মস্কো অগ্নিবিরতি ঘোষণার প্রতি সাথে সাথে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি, অগ্নিবিরতির সুনির্দিষ্ট পরিসর, বাস্তবায়ন ব্যবস্থা ও তদারকি পদ্ধতি কোনোটিই প্রকাশ করা হয়নি।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি সন্ধ্যায় দেওয়া ভাষণে নিশ্চিত করেন, রাশিয়ার "শাহেদ" ড্রোন ওই দিন সারাদিন ইউক্রেনের আকাশময় ছেয়ে ছিল এবং এর সঙ্গে গ্লাইড বোমা হামলাও চলেছে। তিনি বলেন: "দুর্ভাগ্যবশত, আজ সারাদিন ইউক্রেনের আকাশ রুশ শাহেদ ড্রোনের দখলে ছিল। আজ গ্লাইড বোমা হামলা এবং জ্বালানি অবকাঠামোতে আঘাতও হয়েছে। খারকিভের একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র আজ রাতে আক্রান্ত হয়েছে।" জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেন ট্রাম্পের ঘোষণাকে "সবার জন্য সুসংবাদ" হিসেবে "স্বাগত" জানায়, কিন্তু বাস্তবতা হলো জ্বালানি সুবিধায় আঘাত চলছে। মার্কিন সম্প্রচার সংস্থা এবিসির "দিস উইক" অনুষ্ঠানে সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন: "আমরা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে অনুরোধ করছি রুশ পক্ষকে সংকেত দিতে, ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোতে আঘাত হানা বন্ধ করতে।" তিনি একই সঙ্গে জানান, কিয়েভ প্রস্তুত আছে মস্কো ইউক্রেনের জ্বালানি ব্যবস্থায় আঘাত বন্ধ করলে রুশ তেল শোধনাগারে হামলা বন্ধ করতে।

ইউক্রেন ও ইউরোপীয় কর্মকর্তাদের আরও বেশি ক্ষুব্ধ করেছে ট্রাম্পের একদিন আগেই পুতিনের সঙ্গে চূড়ান্ত করা একটি ডিজেল ক্রয় চুক্তি। দ্য হিন্দুর প্রতিবেদন অনুযায়ী, চুক্তিটির উদ্দেশ্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চ ডিজেল মূল্যমজুরির চাপ প্রশমন করা, এবং এর সময়টি মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের একেবারে কাছাকাছি। ইউক্রেন ও ইউরোপীয় কর্মকর্তারা এতে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেছেন, এটি রাশিয়ার যুদ্ধ প্রচেষ্টায় অর্থ জোগাবে।

এটিই প্রথম নয় যার ট্রাম্প জেলেনস্কির দিকে আঙুল তুলেছেন। তিনি ১০ অক্টোবর বলেন, যুক্রেনের "একজন নতুন প্রেসিডেন্ট পাওয়া উচিত", ইঙ্গিত করেন যে জেলেনস্কি যুদ্ধ শেষ করার ক্ষেত্রে যথেষ্ট করছেন না, এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রেকর্ড উচ্চ ডিজেল মূল্যমজুরির দায় সম্পূর্ণভাবে তাঁর ওপরই চাপিয়ে দেন—বরং এটি মার্কিন নেতৃত্বাধীন ইরান যুদ্ধের তাড়িত বৈশ্বিক জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির ফল বলে চিহ্নিত হওয়া সত্ত্বেও। জেলেনস্কি জবাবে বলেন, ইউক্রেন নির্বাচন আয়োজন করতে পারে, তবে শর্ত হলো রাশিয়া সম্পূর্ণ অগ্নিবিরতিতে রাজি হতে হবে ৬০ দিনের জন্য। "আমাদের দুই মাস দিন, ৬০ দিনের বিশ্রাম। সম্পূর্ণ অগ্নিবিরতি, ৬০ দিন, আমরা নির্বাচন আয়োজন করব," তিনি বলেন, এবং জানান ফলাফল যাই হোক, ইউক্রেন জনগণের যেকোনো সিদ্ধান্ত মেনে নেবে। জেলেনস্কি জানান, ইউক্রেনের সংবিধান অনুযায়ী, সামরিক আইন জারি থাকা অবস্থায় নির্বাচন অনুষ্ঠান আইনত অবৈধ; রাশিয়া এখনও ইউক্রেনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ভূমি নিয়ন্ত্রণ করছে, লক্ষ লক্ষ ইউক্রেনীয় দেশের বাইরে ছড়িয়ে আছেন, সম্মুখসারির সৈনিকদের পক্ষে ভোট দেওয়া কার্যত অসম্ভব, এবং জাতীয় পর্যায়ে ভোটগ্রহণ পরিচালনাগতভাবেও প্রায় অসম্ভব। জেলেনস্কির মেয়াদ ২০২৪ সালের মে মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়েছে, তবে সংবিধান নতুন প্রেসিডেন্ট দায়িত্ব নেওয়ার আগে তাঁকে দায়িত্ব পালন চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেয়।

জেলেনস্কি তাঁর ভাষণে আবারও রাশিয়ার মূল কৌশলটি চিহ্নিত করেন—যুদ্ধে ইচ্ছাকৃতভাবে ইউক্রেনের সাধারণ মানুষকে বিদ্যুৎ, তাপ ও পানীয় জল থেকে বঞ্চিত করা, যা ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা "শীতকে অস্ত্রে পরিণত করা" বলে অভিহিত করেন। তিনি একই সঙ্গে জানান, ইউক্রেন একাধিক উপশমমূলক পদক্ষেপ প্রস্তাব করেছে, কিন্তু পুতিন "এসব পদক্ষেপের সবগুলোরই জবাব দিয়েছেন 'না'।" "আমরা আশা করছি তিনি অবশেষে যুক্তরাষ্ট্র, ইউক্রেন ও সমগ্র বিশ্বের কাছে কিছু ভিন্ন কথা বলবেন," জেলেনস্কি বলেন।

এদিকে, ইউক্রেন রাশিয়ার গভীরে লক্ষ্যবস্তুতে দূরপাল্লার আঘাত অব্যাহত রেখেছে। দ্য হিন্দুর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১১ অক্টোবর একটি হামলায় রাশিয়ার শহর ভ্লাদিমিরে প্রযুক্তি জায়ান্ট ইয়ানডেক্স পরিচালিত একটি ডেটা সেন্টার অচল হয়ে পড়ে, এবং এটি চার দিনের মধ্যে ওই কোম্পানির সুবিধায় তৃতীয় আঘাত। মাটিতে রুশ ও ইউক্রেন বাহিনীর অবস্থান যুদ্ধে অচলাবস্থায় আটকে থাকলে দীর্ঘস্থায়ী দূরপাল্লার আকাশ যুদ্ধ চলছে।

ট্রাম্প ও পুতিনের মধ্যে সম্পাদিত ডিজেল ক্রয় চুক্তির শর্তাবলীও প্রকাশ করা হয়নি। মস্কো যখন ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ইউক্রেনের শহরগুলোকে অন্ধকারে ঠেলে দিচ্ছে, ঠিক তখনই ওয়াশিংটন ক্রেমলিনকে জ্বালানির বিল প্রদান করছে—১১ অক্টোবরের অগ্নিবিরতি ঘোষণা প্রকাশের সময় টেবিলে এই বাস্তবতাই উপস্থিত ছিল।

মন্তব্য

0

এখনও কোনো মন্তব্য নেই। আলোচনা শুরু করুন।