বিশ্ব ও নিরাপত্তা

ইরানের বিপ্লবী গার্ডের দাবি, হরমুজ প্রণালীতে দুটি তেল ট্যাঙ্কার সাগরমাইনে আঘাত পেয়ে আগুন ধরেছে; যুক্তরাষ্ট্রের কাউন্টারব্লকেজ ও ইরানের পরিবহন নিয়ন্ত্রণের মুখোমুখি দ্বন্দ্ব তীব্র

The Hindu International ইরানের বিপ্লবী গার্ডের বিবরণের সূত্রে জানিয়েছে, তাদের নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালীর দক্ষিণাংশে টেহরান কর্তৃক ‘অবৈধ’ বলে চিহ্নিত একটি ট্রানজিট পয়েন্টে মাইন বসিয়েছিল; বিস্ফোরণের কারণে দুটি তেল ট্যাঙ্কারে আগুন ধরেছিল এবং তারা চলাচল বন্ধ করে দিয়েছিল। কোনো জাহাজের নাম, হতাহত, বহন করা পণ্য অথবা স্বাধীনভাবে মাঠপর্যায়ের যাচাই এই প্রতিবেদনে দেওয়া হয়নি। একই প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে অতিক্রমণকারী জাহাজের ওপর আক্রমণ বেড়েছে; ইরান জাহাজগুলোকে প্রথমে ইরানের অনুমতি নিত

0 বার দেখা হয়েছেসংরক্ষণ করতে প্রবেশ করুন
TRUTH ERA

2026 সালের 20 অক্টোবর, The Hindu International ইরানের বিপ্লবী গার্ডের অফিসিয়াল Sepah News-এর মাধ্যমে প্রকাশিত বিবরণের সূত্রে জানিয়েছে, বিপ্লবী গার্ডের নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালীর দক্ষিণাংশে টেহরান কর্তৃক ‘অবৈধ’ বলে চিহ্নিত একটি ট্রানজিট পয়েন্টে মাইন বসিয়েছিল; বিস্ফোরণের কারণে দুটি তেল ট্যাঙ্কারে আগুন ধরেছিল এবং তারা চলাচল বন্ধ করে দিয়েছিল। ইরানি পক্ষ এই অভিযানকে ‘নিয়মভঙ্গী’ জাহাজগুলোকে আটকানোর কাজ বলে অভিহিত করে। এই প্রতিবেদনে ট্যাঙ্কার দুটির নাম, ক্রু সদস্যদের হতাহত বা বহন করা পণ্যের তথ্য দেওয়া হয়নি। স্বাধীনভাবে মাঠপর্যায়ে যাচাইও করা হয়নি; টেহরান কর্তৃক সংশ্লিষ্ট রুটকে ‘অবৈধ’ বলে চিহ্নিত করার আন্তর্জাতিক আইনের নির্দিষ্ট ভিত্তি সম্পর্কেও প্রতিবেদনে কিছু বলা হয়নি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, অঞ্চলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানের বাহিনী বারবার হরমুজ প্রণালীর দক্ষিণাংশে, ওমানের উপকূলের কাছে অবস্থিত রুট দিয়ে অতিক্রম করতে চাওয়া জাহাজের ওপর আক্রমণ করেছে এবং জাহাজগুলোকে প্রথমে ইরানের অনুমতি নিতে হবে বলে দাবি করেছে। 19 অক্টোবর বিপ্লবী গার্ড একটি তেল ট্যাঙ্কার সাগরমাইনে আঘাত পেয়ে আগুন ধরার কথা জানায়; 18 অক্টোবর আরও দুটি তেল ট্যাঙ্কার সাগরমাইনে আঘাতের কথা জানায়। তবে 20 অক্টোবরের দাবিতে বলা দুটি ট্যাঙ্কারের সঙ্গে এই জাহাজগুলোর কোনোটি একই কি না তা প্রতিবেদনে বলা হয়নি; একই সঙ্গে জানানো হয়েছে যে সাম্প্রতিক সময়ে অতিক্রমণকারী জাহাজের ওপর আক্রমণ বেড়েছে।

শান্তির সময় বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক পঞ্চাংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবহিত হয়। জাহাজের পরিচয় ও মাঠপর্যায়ের বিবরণ স্বাধীনভাবে যাচাই না হওয়া সত্ত্বেও, সাম্প্রতিক আক্রমণের বৃদ্ধি, বিপ্লবী গার্ডের ধারাবাহিকভাবে আটকানোর দাবি এবং অনুমতির শর্ত আরোপ করার কারণে এই জলপথের ঝুঁকিকে আকস্মিক দুর্ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা যায় না; এই চ্যানেলের ওপর নির্ভরশীল তেল আমদানিকারী দেশগুলোও ছড়িয়ে পড়া প্রভাবের মুখোমুখি হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের সাড়ায় সামুদ্রিক সামরিক নিয়ন্ত্রণের পরিধি আরও বিড়ে গেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর বিরুদ্ধে কাউন্টারব্লকেজ চালু করেছে এবং প্রণালীতে আরও বেশি জাহাজকে প্রতিরক্ষা দিতে চাইছে; টেহরান জাহাজগুলোর কাছে ইরানের অনুমতি নেওয়ার শর্ত চালিয়ে যাচ্ছে। দুই পক্ষের এই পদক্ষেপ সমান নয়: ওয়াশিংটন সামরিক অভিযান ইরানের বন্দর পর্যন্ত বিস্তৃত করেছে ও সামুদ্রিক প্রতিরক্ষার পরিধি বাড়াতে চাইছে, আবার ইরান প্রণালীর ভূগোল এবং ঘোষিত মাইন বসানোর সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজকে অনুমতি নিতে বাধ্য করছে। দুই ধরনের বাধ্যতামূলক ব্যবস্থা একসঙ্গে কার্যকর হওয়ায় ওমানের উপকূলের কাছের দক্ষিণ রুট ঝুঁকির সবচেয়ে সরাসরি কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

দায়বদ্ধতার প্রশ্ন যুদ্ধের সময়রেখার প্রেক্ষাপটে ফিরিয়ে আনতে হবে। The Hindu International সংঘর্ষের সূচনা হিসেবে 2026 সালের 28 ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানের ওপর আক্রমণের কথা বলা হয়েছে এবং জানানো হয়েছে, ওই আক্রমণে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনি ও একাধিক শীর্ষ সামরিক কমান্ডার নিহত হয়েছিলেন; 19 অক্টোবর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগ্চি প্রণালীর অসুরক্ষার দায় ওয়াশিংটনের ওপর দিয়েছেন। যুদ্ধ শুরুর সময়রেখা ও খামেনির মৃত্যু সংক্রান্ত বর্ণনা স্বাধীনভাবে একাধিক সূত্রে যাচাই করা হয়নি। ইরানের দাবি অনুযায়ী মাইন বসানোকে যদি একেবারে বিচ্ছিন্ন নিরাপত্তা ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করা হয়, তাহলে যুদ্ধের প্রেক্ষাপট মুছে যাবে; আবার যুক্তরাষ্ট্রের কাউন্টারব্লকেজ ও প্রতিরক্ষাকে কেবল নৌচলাচল সুরক্ষার কাজ বলে চিহ্নিত করলে ওয়াশিংটনের সামরিক হস্তক্ষেপ বৃদ্ধির দায়বদ্ধতা ঢাকা পড়বে।

প্রতিবেদনে দেখানো হয়নি যে ওমান সরাসরি যুদ্ধে জড়িত হয়েছে। তবে ওমানের উপকূলের কাছের দক্ষিণ রুট ঝুঁকি ছড়িয়ে পড়ার সবচেয়ে সরাসরি কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। বাণিজ্যিক জাহাজ ও ক্রু সদস্যরা একই সঙ্গে ইরানের অনুমতির শর্ত ও বিস্ফোরণের হুমকির মুখোমুখি, আর যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ও কাউন্টারব্লকেজের মুখোমুখি হচ্ছেন। যুদ্ধকর্তা কোনো পক্ষই একপক্ষীভাবে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে পারে না। ফলে ঝুঁকি যুদ্ধকর্তা পক্ষগুলোর যুদ্ধক্ষেত্র পেরিয়ে সরাসরি ওমানসহ তৃতীয় দেশগুলোর ওপর পড়ছে এবং হরমুজ প্রণালীর ওপর নির্ভরশীল তেল আমদানিকারী দেশগুলোকে ছড়িয়ে পড়া ঝুঁকির মুখোমুখি করছে।

মন্তব্য

0

এখনও কোনো মন্তব্য নেই। আলোচনা শুরু করুন।