ক্ষমতা ও রাজনীতি

৩০ বিলিয়ন ডলারের পণ্যে শুল্ক কমানোর আলোচনার নেপথ্যে: চীন-মার্কিন ক্ষমতার অসমতা ও যুদ্ধবিরতির সময়গণনা

চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের আলোচকেরা দ্রুত ৩০ বিলিয়ন ডলারের পণ্যে পারস্পরিক শুল্ক কমানোর চেষ্টা করছেন। ট্রাম্প ও শি জিনপিং ২৪ সেপ্টেম্বর ওয়াশিংটনে তৃতীয়বার সরাসরি বৈঠক করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। তবে Barclays সতর্ক করেছে, ১০ নভেম্বর শুল্ক যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার আগে বিস্তৃত চুক্তির সুযোগ সীমিত; লক্ষ্যভিত্তিক শুল্ক হ্রাসই বেশি সম্ভাব্য।

0 বার দেখা হয়েছেসংরক্ষণ করতে প্রবেশ করুন
TRUTH ERA

চীন-মার্কিন বাণিজ্যযুদ্ধের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত দ্রুত এগিয়ে আসছে। চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হুয়াং লিং বৃহস্পতিবার বলেন, দুই দেশের আলোচকেরা একটি “প্রারম্ভিক তারিখে” ৩০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্যে পারস্পরিক শুল্ক কমানোর চেষ্টা করছেন। The Hindu-এর তথ্য অনুযায়ী, এই বক্তব্য দুই সপ্তাহ পর ওয়াশিংটনে দুই দেশের নেতার বৈঠক ঘিরে প্রত্যাশা বাড়িয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ২৪ সেপ্টেম্বর ওয়াশিংটনে বৈঠক করবেন বলে আশা করা হচ্ছে; গত এক বছরে এটি হবে তাদের তৃতীয় সরাসরি সাক্ষাৎ। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন একই দিনে বলেন, “চীন-মার্কিন সম্পর্কে রাষ্ট্রপ্রধানদের কূটনীতি অপূরণীয় কৌশলগত দিকনির্দেশনার ভূমিকা পালন করে।” এই বক্তব্য দেখায়, বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনীতির প্রতিযোগিতামূলক সম্পর্ক স্থিতিশীল করতে নেতাদের সরাসরি সম্পৃক্ততাকে বেইজিং কতটা গুরুত্বপূর্ণ মনে করে।

তবে এই প্রতিযোগিতার সূচনা সমান অবস্থান থেকে হয়নি। মে মাসে বেইজিংয়ে দুই পক্ষ যে সমঝোতায় পৌঁছেছিল—দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য পরিচালনার জন্য মার্কিন-চীন বাণিজ্য পরিষদ এবং পাশাপাশি একটি বিনিয়োগ কমিটি গঠন—তা এসেছিল “তীব্র শুল্কযুদ্ধের” পর যুদ্ধবিরতির মধ্যে। ট্রাম্প চীনা আমদানির ওপর শুল্ক অত্যন্ত উচ্চ পর্যায়ে তুলেছিলেন এবং চীন একইভাবে জবাব দিয়েছিল। সমস্যা হলো, এক পক্ষ প্রথমে একতরফাভাবে শুল্ক বাড়ানোর পরই যুদ্ধবিরতির ব্যবস্থা তৈরি হয়েছিল, যা কাঠামোগতভাবে উদ্যোগী পক্ষের আলোচ্যসূচি নির্ধারণের ক্ষমতাকে প্রতিফলিত করে।

হুয়াং লিং কোন পণ্যগুলো অন্তর্ভুক্ত হবে বা বাস্তবায়নের সময়সূচি কী হবে সে বিষয়ে আর কোনো তথ্য দেননি। The Hindu এই সপ্তাহে শি-ট্রাম্প শীর্ষ বৈঠক নিয়ে Barclays-এর গবেষণা প্রতিবেদন উদ্ধৃত করে জানায়, বাণিজ্য বৈঠকের “মূল বিষয়” হবে। একই সঙ্গে ব্যাংকটি সতর্ক করেছে যে বিস্তৃত বাণিজ্য চুক্তির সুযোগ সীমিত এবং “লক্ষ্যভিত্তিক শুল্ক হ্রাসের সম্ভাবনাই বেশি।” দুই দেশের আগের শুল্ক যুদ্ধবিরতি ১০ নভেম্বর শেষ হবে, ফলে আলোচনায় জরুরি চাপ বেড়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, পারস্পরিক শুল্ক হ্রাসের আলোচনা বাণিজ্য পরিষদ গঠনের কাজের কেন্দ্রীয় অংশ। এর লক্ষ্য হলো উভয় পক্ষের সমমূল্যের “অসংবেদনশীল” পণ্য শনাক্ত করে শুল্ক কমানো। এই কাঠামোর নকশাই ক্ষমতার অসমতা প্রকাশ করে: কোন পণ্য “সংবেদনশীল” হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ হবে তা কে নির্ধারণ করবে? যখন একটি পক্ষ প্রথমে শুল্ককে চরম পর্যায়ে নিতে পারে এবং পরে আলোচনার মাধ্যমে সমপরিমাণ হ্রাস “অর্জন” করতে পারে, তখন তথাকথিত “পারস্পরিকতা” আসলে সেই পক্ষের নির্ধারিত উচ্চতর ভিত্তিতে ফিরে যাওয়া।

The Hindu-এর আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীন “সস্তা পণ্যে বাজার ভাসিয়ে দিচ্ছে”—এই অভিযোগে ট্রাম্প নতুন শুল্ক আরোপের দিকে এগোচ্ছেন। যুদ্ধবিরতি আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এই পদক্ষেপ দেখায় যে রাষ্ট্রপ্রধানদের কূটনীতির স্থিতিশীলতার আবরণের নিচেও একতরফা চাপের হাতিয়ার সক্রিয় রয়েছে। ১০ নভেম্বর যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার আগে শি-ট্রাম্প বৈঠক শুল্কের নতুন উত্থান ঠেকানোর মতো যথেষ্ট বাস্তব চুক্তিতে পৌঁছাতে পারবে কি না, তা এখনো অজানা।

মন্তব্য

0

এখনও কোনো মন্তব্য নেই। আলোচনা শুরু করুন।