বুকাভুর বিদ্রোহী-নিয়ন্ত্রিত এলাকায় স্কুলে আগুন, পদদলিত হয়ে অন্তত ২৪ শিশুর মৃত্যু
গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের দক্ষিণ কিভু প্রদেশের রাজধানী বুকাভুর কাদুতু জেলায় দুটি স্কুলে আগুন লাগে। পালানোর সময় পদদলিত হয়ে অন্তত ২৪ শিশু মারা যায় এবং প্রায় ৩০০টি বাড়ি পুড়ে যায়। গত ফেব্রুয়ারি থেকে শহরটি এম২৩ বিদ্রোহী গোষ্ঠীর দখলে; কিনশাসার কেন্দ্রীয় সরকার শোক জানালেও হতাহতের নির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করেনি।
বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের পূর্বাঞ্চলের বিদ্রোহী-নিয়ন্ত্রিত শহর বুকাভুর একটি স্কুলে আগুন লাগার পর পালানোর সময় পদদলিত হয়ে অন্তত ২৪ শিশু মারা গেছে। বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নিয়োগ করা কর্তৃপক্ষ সতর্ক করেছে, প্রকৃত মৃতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।
দক্ষিণ কিভু প্রদেশের রাজধানী বুকাভু দেশটির সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ পাহাড়ি শহরগুলোর একটি। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে এম২৩ শহরটি দখল করার পর থেকে এটি কিনশাসার কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। রয়টার্সকে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেলে আগুন নেভানো হলেও ধ্বংসস্তূপ ও ঢেউখেলানো টিনের অবশেষ থেকে তখনও ধোঁয়া উঠছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ছবিতে ছোট শিশুদের মাটিতে নিথর হয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায়; উদ্ধার হওয়া অন্য কয়েকজন শিশু হাসপাতালের মেঝেতে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছিল।
স্কুল ছাড়াও আগুনে প্রায় ৩০০টি বাড়ি পুড়ে গেছে। বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নিয়োগ করা কর্তৃপক্ষ বৃহস্পতিবার রাতে ২৪ জনের প্রাথমিক মৃতের সংখ্যা প্রকাশ করে, তবে আরও মানুষ মারা যেতে পারে বলে আশঙ্কা জানায়। এলাকাটি ঘনবসতিপূর্ণ হওয়ায় চূড়ান্ত সংখ্যা এখনও নির্ধারণ করা যায়নি। আগুনের কারণও স্পষ্ট নয়।
এরপর কিনশাসার কেন্দ্রীয় সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয় এক্সে বিবৃতি দিয়ে নিহতদের জন্য গভীর শোক জানায়, কিন্তু হতাহতের নির্দিষ্ট সংখ্যা দেয়নি। বিবৃতিতে বলা হয়, “জাতীয় শিক্ষা ও নতুন নাগরিকত্ব মন্ত্রণালয় এই প্রাণঘাতী অগ্নিকাণ্ডে গভীরভাবে শোকাহত।” এতে আরও বলা হয়, হতাহতের সংখ্যা এখনও প্রাথমিক; মন্ত্রী নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত স্কুলগুলো মূল্যায়নের নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত থাকে।
সাম্প্রতিক সময়ে গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে বড় প্রাণহানির ঘটনা ঘটানো এটি দ্বিতীয় আগুন। গত সপ্তাহের শেষে কিনশাসার একটি বিয়ের অনুষ্ঠানস্থলেও একই ধরনের আগুন লাগে এবং পদদলিত হয়ে বাসিন্দারা মারা যান। এর প্রতিক্রিয়ায় কেন্দ্রীয় সরকার দেশজুড়ে জনসমাগমের স্থানগুলোতে কঠোর নিরাপত্তা মানদণ্ড কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছে এবং পরিদর্শনের জন্য দল পাঠিয়েছে।
তবে বুকাভুর মতো কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে বিদ্রোহীদের শাসিত এলাকায় কিনশাসার নিরাপত্তা নির্দেশ বাস্তবায়ন করা কঠিন। গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে এম২৩ পূর্ব কঙ্গোতে দ্রুত বিস্তার ঘটিয়েছে। উত্তর কিভুর রাজধানী গোমা এবং দক্ষিণ কিভুর রাজধানী বুকাভুসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শহর তারা দখল করেছে। এতে বিপুলসংখ্যক বেসামরিক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং মানবিক সংকট গভীর হয়েছে। জাতিসংঘ বারবার সতর্ক করেছে, পূর্ব কঙ্গো বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বাস্তুচ্যুত মানুষের আবাসস্থলগুলোর একটি।
একটি স্কুল যখন মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয় এবং শত শত বাড়ি আগুনে ভস্মীভূত হয়, তখন বিদ্রোহী-নিয়ন্ত্রিত এলাকায় অগ্নিনির্বাপণ, জরুরি সরিয়ে নেওয়া এবং মৌলিক জননিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুতর অনুপস্থিতি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। শিশুদের শ্রেণিকক্ষে পড়াশোনা করার কথা ছিল, কিন্তু একটি পদদলনের ঘটনায় তারা প্রাণ হারাল। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের অবহেলিত এই সংঘাতের ওপর এটি সর্বশেষ নেমে আসা অন্ধকার।
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। আলোচনা শুরু করুন।