বিশ্ব ও নিরাপত্তা

মস্কোর দাবি, ইউক্রেন রাশিয়া-ব্রিটেন যুদ্ধ বাধানোর চেষ্টা করেছে; এর আগে রুশ অপতথ্য নিয়ে সতর্ক করেছিল ব্রিটেন

দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাশিয়া দাবি করেছে ইউক্রেন রাশিয়া ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে যুদ্ধ বাধানোর চেষ্টা করেছে। এর আগে ব্রিটেন সতর্ক করেছিল যে ইউক্রেন ও তার আন্তর্জাতিক অংশীদারদের মধ্যে বিভাজন তৈরির জন্য রাশিয়া পরিকল্পিতভাবে অপতথ্যের কৌশল ব্যবহার করছে। পাল্টাপাল্টি এই অভিযোগ দেখিয়ে দেয়, রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতে তথ্যযুদ্ধ একটি গুরুত্বপূর্ণ মাত্রায় পরিণত হয়েছে।

0 বার দেখা হয়েছেসংরক্ষণ করতে প্রবেশ করুন
TRUTH ERA

দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাশিয়া দাবি করেছে ইউক্রেন রাশিয়া ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে যুদ্ধ বাধানোর চেষ্টা করেছে। ১০ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস জানায়, মস্কোর এই অভিযোগের নির্দিষ্ট বিষয়বস্তু, প্রকাশের মাধ্যম এবং ভিত্তি প্রকাশ্য নথিতে স্পষ্ট নয়।

ব্রিটেনের একাধিক সতর্কবার্তার পটভূমিতে এই অভিযোগ সামনে এসেছে। দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্রিটেন এর আগে সতর্ক করেছিল যে ইউক্রেন ও তার আন্তর্জাতিক অংশীদারদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি করতে রাশিয়া পরিকল্পিতভাবে অপতথ্যের কৌশল ব্যবহার করছে। ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা দেওয়া প্রধান পশ্চিমা দেশগুলোর একটি হিসেবে ব্রিটেনের সতর্কতা যেমন তথ্যযুদ্ধের দিকটি নির্দেশ করে, তেমনি সংঘাত আরও তীব্র হলে নিজে তাতে গভীরভাবে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও প্রতিফলিত করে।

ইউক্রেনকে “যুদ্ধ শুরু করতে আগ্রহী” পক্ষ হিসেবে তুলে ধরার এই বয়ান একাধিক উদ্দেশ্য পূরণ করে: ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের মূল সত্য থেকে আন্তর্জাতিক সমাজের মনোযোগ সরানো; পরমাণু শক্তিধর একটি ন্যাটো সদস্যকে “উসকানি দেওয়া হয়েছে” এই কাঠামোর মধ্যে এনে পশ্চিমা জোটের অভ্যন্তরীণ প্রতিক্রিয়া যাচাই করা; এবং ইউক্রেন যখন প্রতিরক্ষা বজায় রাখতে আন্তর্জাতিক সমর্থনের ওপর নির্ভর করছে, তখন তার অংশীদারিত্বে ফাটল ধরেছে এমন ধারণা তৈরি করা।

তথ্যযুদ্ধ ও সামরিক অভিযানের সমান্তরাল অগ্রগতি আকস্মিক নয়। যুদ্ধক্ষেত্রে প্রচলিত শক্তির তুলনা বারবার আলোচিত হয়ে গেলে মনোযোগ সরে যায় জনমত ও আস্থার কাঠামোগত লড়াইয়ের দিকে। তথ্য যাচাইয়ের সক্ষমতা, তথ্যসূত্রের বিশ্বাসযোগ্যতা মূল্যায়ন, এবং ইউক্রেনের প্রতি দীর্ঘমেয়াদি সমর্থন বজায় রাখার আন্তর্জাতিক সমাজের ইচ্ছা—সবই সামনের সারির যুদ্ধক্ষেত্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ ফ্রন্ট।

ইউক্রেন নিয়ে ব্রিটিশ সরকারের নীতিও নিজস্বভাবে পর্যালোচনার দাবি রাখে। ইউক্রেনকে দূরপাল্লার আঘাত হানার অস্ত্র ও সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়া প্রধান পশ্চিমা দেশগুলোর একটি হিসেবে ব্রিটেনের সহায়তার পরিমাণ, অস্ত্রের ধরন বেছে নেওয়া এবং নিষেধাজ্ঞার কাঠামোর মধ্যে তার পদক্ষেপ সংঘাতের তীব্রতা ও স্থায়িত্বকে সরাসরি প্রভাবিত করে। কিন্তু এসব নীতিগত সিদ্ধান্তকে মস্কোর তথ্য-কারসাজির কৌশলের সঙ্গে এক করে দেখানোই রুশ তথ্যযুদ্ধের অন্যতম লক্ষ্য: বাস্তবতার সীমারেখা ঝাপসা করে পশ্চিমা সমাজের নিজের সরকারের নীতির সমালোচনামূলক পর্যালোচনাকে ইউক্রেনের প্রতিরোধের বৈধতা নিয়ে সন্দেহে পরিণত করা।

মস্কোর অভিযোগের নির্দিষ্ট বিষয়বস্তু সত্য কি না, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা দরকার। তবে অভিযোগটি সত্য বা মিথ্যা যা-ই হোক, তা প্রকাশের সময় ও ব্যবহৃত ভাষা নিজেই একটি তথ্য-অভিযানের অংশ হয়ে উঠেছে। তাই প্রতিটি বিবৃতি মূল্যায়নের সময় একই সঙ্গে দুটি প্রশ্ন করতে হবে: বিবৃতিটি কোন ঘটনার কথা বলছে, এবং সেটি তৈরি ও ছড়িয়ে দেওয়ার রাজনৈতিক কাজটি কী?

মন্তব্য

0

এখনও কোনো মন্তব্য নেই। আলোচনা শুরু করুন।

মস্কোর দাবি, ইউক্রেন রাশিয়া-ব্রিটেন যুদ্ধ বাধানোর চেষ্টা করেছে; এর আগে রুশ অপতথ্য নিয়ে সতর্ক করেছিল ব্রিটেন | Truth Era