বিশ্ব ও নিরাপত্তা

‘Made in Senegal’: বেনিনের গিটারিস্ট Orchestra Baobab-এর সংগীতে ‘ফিরে না ফেরার দরজা’ তুলে আনলেন

Africanews-এ প্রকাশিত এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেনেগালের ব্যান্ড Orchestra Baobab শিগগিরই ‘Made in Senegal’ প্রকাশ করবে। প্রায় এক দশকের ব্যবধানে এটি দলটির প্রথম নতুন গানের অ্যালবাম। অ্যালবামের ১২টি ট্র্যাকের প্রায় অর্ধেক নতুনভাবে রচিত। নতুন প্রজন্মের সঙ্গীতারা ওলোফ গ্রিওট সংগীত, কঙ্গো রুম্বা, সেনেগালি mbalax ও জাজের ঐতিহ্য ধরে রেখে নিজস্ব শৈলী যোগ করেছেন। বেনিনজাতীন প্রধান গিটারিস্ট Bolero Lagratte-এর রচনা ‘Wida’ তাঁর জন্মভূমি বেনিনের ‘Wida’ নামের ঐতিহাসিক দাস ব্যবসার বন্দর এবং ‘ফিরে না ফেরা

0 বার দেখা হয়েছেসংরক্ষণ করতে প্রবেশ করুন
TRUTH ERA

Africanews-এ প্রকাশিত এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেনেগালের ব্যান্ড Orchestra Baobab শিগগিরই ‘Made in Senegal’ প্রকাশ করবে। প্রায় এক দশকের ব্যবধানে এটি দলটির প্রথম নতুন গানের অ্যালবাম। অ্যালবামে মোট ১২টি ট্র্যাক রয়েছে; প্রায় অর্ধেক নতুনভাবে রচিত, আর অধিকাংশ আগে কখনও দলের কোনো কাজে অন্তর্ভুক্ত ছিল না। কাজটি দলটির আফ্রিকা–কিউবা ফিউশনকে কাঠামো হিসেবে রেখে ওলোফ গ্রিওট সংগীত, কঙ্গো রুম্বা, সেনেগালি mbalax ও জাজের মতো ঐতিহ্যকে একসঙ্গে বুননো শব্দরসায়ন বজায় রেখেছে।

অ্যালবামটি প্রথমেই দলের গঠন ও ঐতিহ্য হস্তান্তরের প্রজন্মবদলকে তুলে ধরে। Orchestra Baobab ১৯৭০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। তখন দলটি ডাকারের নাইটক্লাব ও রেডিওতে আধিপত্য বিস্তার করেছিল; পরে একবার বন্ধ হয়ে যায় এবং ২১শ শতকের শুরুতে পুনরুজ্জীবিত হয়ে আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করে। এখন দলের নতুন সদস্যদের বেশিরভাগের বয়স ত্রিশের দশক থেকে চল্লিশের দশকের মধ্যে। প্রধান কণ্ঠকার Korka Dieng ২০২৩ সালে দলে যোগ দেন এবং প্রথম ও একমাত্র নারী সদস্য হন। প্রতিষ্ঠাতা গিটারিস্ট Barthelemy Attisso ২০২১ সালে প্রয়াত হন। গায়ক ও পারকাশনবাদক Balla Sidibe ও Rudy Gomis ২০২০-এর শুরুতে পরপর প্রয়াত হন। স্যাক্সোফোনবাদক Issa Cissokho-ও আগেই প্রয়াত হয়ে গেছেন। আগের নতুন গানের অ্যালবাম ‘Tribute to Ndiouga Dieng’ ২০১৭ সালে প্রকাশিত হয়, যা একজন প্রয়াত প্রতিষ্ঠাতা সদস্যকেই স্মরণ করেছিল। এখানে ঐতিহ্য কোনো বিমূহত স্লোগান নয়; কে কার জায়গায় এসেছেন, কে সংগীত চালিয়ে যাচ্ছেন এবং কোন কোন গান নতুন করে রচিত হয়েছে—এসবের মধ্যেই তা নিবদ্ধ হয়ে থাকে।

Dieng বলেন, তিনি ও অন্যান্য কম বয়সী সঙ্গীতারা প্রত্যেকেই ব্যক্তিগত শৈলী নিয়ে আসেন, অথচ একই সঙ্গে ‘কিংবদন্তি দলটিকে আজ পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার যে মৌলিকত্ব, তা ধরে রাখার চেষ্টা করেন। তাঁর ব্যাখ্যায়, মৌলিকত্বের অর্থ পুরোনো সুরকে অবিকৃত রেখে দেওয়া নয়, বরং নতুন সদস্যদের সাধারণ ইতিহাসে সহজেই চেনা যায় এমন ব্যক্তিগত ছাপ রেখে দেওয়া। যে দলটি বারবার পুরোনো সদস্যদের হারাচ্ছে, তার ক্ষেত্রে প্রজন্মবদলই এই অ্যালবামের কেন্দ্রীয় শিল্পগত প্রশ্ন।

আসলে ইতিহাসের প্রশ্নকে সামনে আনে ‘Wida’। ৩৭ বছর বয়সী প্রধান গিটারিস্ট Bolero Lagratte-এর রচিত এই গানটি সরাসরি তাঁর জন্মভূমি বেনিনের ‘Wida’ নামের ঐতিহাসিক দাস ব্যবসার বন্দর এবং সেখানকার ‘ফিরে না ফেরার দরজা’-কে ইঙ্গিত করে। Lagratte দলের নতুন সদস্যদের মধ্যে সবচেয়ে দীর্ঘদিন ধরে আছেন এবং ২০২১ সালে প্রয়াত প্রতিষ্ঠাতা গিটারিস্ট Attisso-এর জায়গা নিয়েছেন। দাস ব্যবসার ইতিহাস এখন গানের শিরোনাম ও বিষয়বস্তুতে স্পষ্টভাবে চিহ্নিত হয়ে উঠেছে। বেনিনে জন্ম নেওয়া একজন সৃজনশীল ব্যক্তি সরাসরি সেনেগালি দলের বর্তমান সৃষ্টিতে এই স্মৃতি নিয়ে আসেন। এতে দাস ব্যবসার রেকমে দাঁড়ানো কাঠামোগত সহিংসতা মুছে ফেলা যায় না; তবে কে এই স্মৃতি রাখতে পারে, তা বদলে যায়। Lagratte বাইরের দিকে কেবল একটি ‘আফ্রিকান সুর’ প্রদান করেন না; নিজের ইতিহাসকে সাম্প্রতিক রচনায় কীভাবে ঢুকিয়ে দেবেন, তাও ঠিক করছেন।

অ্যালবামের অন্য নতুন গান ‘Gorgorlou’ লিখেছেন ট্রম্বোন ও টেনর স্যাক্সোফোন বাজানোর কারিগর Wilfried Zinsou। ‘Gorgorlou’ ওলোফ ভাষায় এমন একজনকে বোঝায়, যিনি কষ্ট করে সংসার চালান। ‘Wida’ যখন দাস ব্যবসার বন্দর ও বলপূর্বক স্থানান্তরের ভূগোল চিহ্নের দিকে তাকায়, ‘Gorgorlou’ তখন বিশাল ইতিহাসকে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন অবস্থায় টেনে আনে।

Zinsou Orchestra Baobab-কে জাতীয় সম্পদ বলে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: “মানুষ আমাদের মাধ্যমেই সেনেগালকে চেনে; আমরা তাদের কাছে সেনেগালের সংস্কৃতি নিয়ে যাই। যাঁরা সেনেগাল সম্পর্কে জানেন না, তাঁরা Orchestra Baobab-এর মাধ্যমে এই দেশটিকে দেখেন।” এই বক্তব্যে দেখা যায়, দলটি শুধু ছন্দ প্রচার করেই থেমে থাকতে চায় না; দেশটিকে ব্যাখ্যা করার কাজেও অংশ নিতে চায়। ডাকারের বাইরে অনুষ্ঠিত সফরেও তাদের ‘সেনেগালের প্রতিনিধিত্ব করা’ আত্মপরিচয় আন্তর্জাতিক প্রচারের ক্ষেত্রে প্রকাশ পায়।

‘Wida’-এর ‘ফিরে না ফেরার দরজা’ আর ‘Gorgorlou’-এর দৈনন্দিন উপার্জনের মধ্যে, Orchestra Baobab কোনো স্থির ‘আফ্রিকান ঐতিহ্য’ লেবেল রেখে যায়নি; বরং এখনও বিকাশমান একটি ঐতিহাসিক প্রকাশ রেখে যায়। বেনিনজাতীন সৃজনশীল ব্যক্তি নিজ দেশের দাস ব্যবসার স্মৃতি সেনেগালের সংগীতে নিয়ে আসেন, আর পুরোনো প্রজন্মের মৃত্যুর পর কম বয়সী সদস্যরা এই সংগীতকে কীভাবে বাজানো হবে, তা ঠিক করে যান।

মন্তব্য

0

এখনও কোনো মন্তব্য নেই। আলোচনা শুরু করুন।