ট্রুথ সোশ্যালে যুদ্ধবিরতি: ট্রাম্পের একতরফা 'শক্তি যুদ্ধবিরতি' ঘোষণার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ইউক্রেনের একাধিক শহরে হামলা অব্যাহত
ট্রাম্প ১২ অক্টোবর ট্রুথ সোশ্যালে একতরফাভাবে ঘোষিত 'শক্তি যুদ্ধবিরতি' কার্যকর হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই রাশিয়া এটি নিশ্চিত করেনি এবং ইউক্রেনের খারকিভ, কিয়েভ, দোনেৎস্কসহ একাধিক শহরের শক্তি অবকাঠামো ও বেসামরিক ভবন নতুন করে আঘাতে শিকার হয়েছে। জেলেনস্কি রাশিয়াকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের দায়ী করেছেন এবং ইইউ ও ফ্রান্স উভয়েই বলেছে 'রাশিয়ার পক্ষ থেকে কোনো সম্মতি দেখা যাচ্ছে না'।
DW-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ১২ অক্টোবর সন্ধ্যায় ট্রুথ সোশ্যালে একতরফাভাবে ঘোষণা করেন যে 'উভয় পক্ষ' তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হওয়া 'শক্তি যুদ্ধবিরতিতে' সম্মত হয়েছে। তবে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই এই ঘোষণা যুদ্ধক্ষেত্রের বাস্তবতায় ভেঙে পড়ে — মস্কো এটি নিশ্চিত করেনি এবং ইউক্রেনের একাধিক স্থানে শক্তি অবকাঠামো ও বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত অব্যাহত রয়েছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি একই দিনে ভার্সো সিকিউরিটি ফোরামে ভিডিও লিংকের মাধ্যমে বক্তৃতা দিয়ে রাশিয়াকে স্পষ্টভাবে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের দায়ী করেন। তিনি অ্যাক্সিওসকে বলেন, তথাকথিত 'শক্তি যুদ্ধবিরতি' 'আমার কাছে একেবারেই নতুন' — তিনি নিজেও এই খবর মিডিয়া থেকেই জেনেছেন। জেলেনস্কি ভার্সো ফোরামে সরাসরি বলেন: 'স্পষ্টতইই, পুতিন ট্রুথ সোশ্যাল পড়েন না।'
নতুন হামলার ক্ষয়ক্ষতির চিত্র দ্রুত স্পষ্ট হয়ে উঠছে। DW ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, উত্তর-পূর্বের শহর খারকিভের শক্তি অবকাঠামোতে আঘাতে কমপক্ষে ১২ জন আহত হয়েছেন; কিয়েভের একটি উঁচু বহুতল ভবনে আঘাতে মেয়র ক্লিচকো ১ জনের মৃত্যু ও ১১ জন আহতের খবর জানিয়েছেন। পূর্বের দোনেৎস্কে রকেট হামলায় ৩ বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন; ক্রামাতোর্স্কে আরও ৪ জন বেসামরিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন।
জেলেনস্কি তাঁর বক্তৃতায় যুদ্ধবিরতির সুনির্দিষ্ট শর্তাবলী তুলে ধরেন: 'রাশিয়া যদি চায় আমরা তাদের তেল শোধনাগার ও জ্বালানি রপ্তানিতে দূরপাল্লার হামলা বন্ধ করি, তাহলে তাদের আমাদের শক্তি ব্যবস্থা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা বন্ধ করতে হবে, আমাদের মানুষকে হত্যা করা বন্ধ করতে হবে।' তিনি একই সঙ্গে সতর্ক করেন যে রাশিয়া যদি যুদ্ধবিরতি মানে না, তাহলে ইউক্রেন 'প্রতিক্রিয়া জানাবে'।
একই দিনে ক্রেমলিনের অবস্থান এই 'যুদ্ধবিরতি'র ভিত্তিহীনতাকে আরও বেশি উন্মোচন করেছে। রাশিয়া জানায়, পুতিন কেবলমাত্র ইউক্রেনে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেই 'একদিনের যুদ্ধবিরতি' বিবেচনা করবেন; রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী লাভরভ জেলেনস্কিকে 'শ্বাস নেওয়ার সুযোগ পাওয়ার যোগ্য নন' বলে অভিহিত করেন এবং জেলেনস্কির আগে প্রস্তাবিত ৬০ দিনের নির্বাচনী যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। অন্যভাবে বলতে গেলে, মস্কো কোনো যাচাইযোগ্য পারস্পরিক যুদ্ধবিরতির প্রতিশ্রুতি দেয়নি।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র বিষয়ক প্রধান কাজা কাল্লাস লুক্সেমবার্গে ইইউ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে বলেন: 'আমরা এখনও দেখতে পাইনি রাশিয়ার পক্ষ থেকেও যুদ্ধবিরতি মানা হচ্ছে', এবং জোর দিয়ে বলেন যে ইইউ 'শক্তি যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানাবে — যদি তা বাস্তবায়িত হয়'। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ-এর ভাষাও একই রকম স্পষ্ট: 'গত ৪৮ ঘণ্টায় আমি রাশিয়ার পক্ষ থেকে কোনো শক্তি যুদ্ধবিরতি লক্ষ্য করিনি।'
এই 'যুদ্ধবিরতি'র সূচনার ধরনটি চিন্তাশীলদের কাছে প্রশ্ন তোলে: একটি পক্ষ মার্কিন প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে একতরফাভাবে 'তাৎক্ষণিক কার্যকর' ঘোষণা করে, অন্য পক্ষ তা নিশ্চিত করে না, এবং যার বিরুদ্ধে ঘোষণা করা হয়েছে — ইউক্রেন — সেও মিডিয়া থেকেই জানতে পারে। তথাকথিত যুদ্ধবিরতির কোনো প্রকাশ্য পাঠ বা অবকাঠামোর পরিধি নেই, সময়কাল ও পারস্পরিক বাধ্যবাধকতার কোনো মৌলিক সংজ্ঞা নেই, কোনো তৃতীয় পক্ষের তদারকি ও বাস্তবায়ন ব্যবস্থাও নেই। যখন যুদ্ধবিরতি কেবল সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের আকারে বিদ্যমান, অথচ ইউক্রেনের শক্তি ও বেসামরিক অবকাঠামো গোলার আঘাত সহ্য করতে থাকে, তখন মূল্য দিতে হয় কিয়েভে, খারকিভে ও দোনেৎস্কের সাধারণ জনগণকেই।
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। আলোচনা শুরু করুন।