মার্কিন পক্ষের ঘোষিত তথাকথিত 'জ্বালানি যুদ্ধবিরতি'-র পরও রুশ বাহিনী ইউক্রেনের মূল জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালিয়ে যাচ্ছে
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তথাকথিত 'জ্বালানি যুদ্ধবিরতি' কার্যকর বলে ঘোষণার পর রাশিয়া ইউক্রেনের বেশ কয়েকটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে; লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ছিল দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর খারকিভ ও রাজধানী কিয়েভ। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, এই যুদ্ধবিরতির ঘোষণা তাঁকে অবাক করেছে; মস্কোও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি — যা মার্কিন পক্ষের একতরফা কূটনৈতিক ঘোষণা ও যুদ্ধক্ষেত্রের বাস্তবতার মধ্যকার ব্যবধানকে স্পষ্ট করে তুলেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তথাকথিত 'জ্বালানি যুদ্ধবিরতি' কার্যকর বলে ঘোষণার পর রাশিয়া ইউক্রেনের বেশ কয়েকটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে; লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ছিল দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর খারকিভ ও রাজধানী কিয়েভ। ফ্রান্স ২৪ টেলিভিশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই হামলাগুলো ট্রাম্পের ওই বিবৃতি প্রদানের পরপরই সংঘটিত হয়েছে — যা মার্কিন পক্ষের একতরফা কূটনৈতিক ঘোষণা ও যুদ্ধক্ষেত্রের বাস্তবতার মধ্যকার ব্যবধানকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে।
ফ্রান্স ২৪-এর আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ডগলাস হার্বার্ট এই ঘটনাটি বিশ্লেষণ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, ঘোষণা ও পদক্ষেপের এই সময়ক্রম তথাকথিত 'যুদ্ধবিরতি'-র বিশ্বাসযোগ্যতাকে সরাসরি প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, এই যুদ্ধবিরতির ঘোষণা তাঁকে অবাক করেছে। এই বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, যুদ্ধবিরতির নির্দিষ্ট পরিধি, কার্যকর হওয়ার সময় এবং তা বাধ্যবাধকতাপূর্ণ কিনা — এসব বিষয়ে কিয়েভ মার্কিন পক্ষের কাছ থেকে আগে কোনো স্পষ্ট ব্রিফিং পায়নি; মার্কিন ও ইউক্রেনের মধ্যে এই বিষয়ে আগে থেকে কোনো সমন্বয় হয়েছিল কিনা, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
এ পর্যন্ত মস্কো এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। ক্রেমলিনের এই নীরবতা দুটি সম্ভাবনা সামনে রাখছে: হয় রাশিয়া এই ব্যবস্থাকে স্বীকৃতি দেবে কিনা তা বিবেচনা করছে, নয়ত এটি উপেক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোতে রুশ পক্ষের চলমান হামলা নিজেই বাস্তবে উত্তর দিয়ে দিয়েছে যে এই 'যুদ্ধবিরতি' তার জন্য আদৌ কোনো বাধ্যবাধকতা বহন করে কিনা।
তৃতীয় পক্ষের একতরফা ঘোষণায়, সংঘাতপক্ষগুলোর সম্মতি ছাড়া ঘোষিত এই ধরনের যুদ্ধবিরতি কাঠামোর সরাসরি ব্যয় বহন করছে ইউক্রেনের জ্বালানি ব্যবস্থা ও শহরগুলোর বিদ্যুৎ সরবরাহ। কূটনৈতিক ঘোষণা ও চলমান হামলা যখন পাশাপাশি চলে, আঘাত কেবল বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতেই সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং মার্কিন পক্ষের প্রতিশ্রুতিকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রত্যাশাগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। আলোচনা শুরু করুন।