বিশ্ব ও নিরাপত্তা

রুবিওর ভারত সফরে এশীয় ধনীদের সঙ্গে বৈঠকের পরিকল্পনা: ওয়াশিংটনের বাণিজ্য কর্মকাণ্ড কে উপকৃত হবে, কে চাপে পড়বে?

দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কো রুবিও ভারত সফরে যাচ্ছেন যাতে দেশ দুটির অর্থনৈতিক যোগাযোগ শক্তিশালী করা যায় এবং এশিয়ার কয়েকজন সবচেয়ে ধনী ব্যক্তির সঙ্গে তিনি দেখা করতে পারেন; ওয়াশিংটন একটি বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদনের চেষ্টা করছে। সফরটি রুবিও ও ট্রাম্পের মধ্যে তিক্ততা থাকা পটভূমিতে হচ্ছে, তবে প্রতিবেদনে চুক্তির শর্তাবলি, সময়সূচি, সম্ভাব্য সুবিধাভোগী বা খরচ বহনকারীদের কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

0 বার দেখা হয়েছেসংরক্ষণ করতে প্রবেশ করুন
TRUTH ERA

দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কো রুবিও ভারত সফরে যাচ্ছেন যাতে দেশ দুটির অর্থনৈতিক যোগাযোগ শক্তিশালী করা যায় এবং এশিয়ার কয়েকজন সবচেয়ে ধনী ব্যক্তির সঙ্গে তিনি দেখা করতে পারেন। ওয়াশিংটন একটি বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদনের চেষ্টা করছে; অর্থাৎ, এই যাত্রায় মার্কিন ও ভারতীয় সরকারের মধ্যকার যোগাযোগের পাশাপাশি বাণিজ্য কর্মকাণ্ড সরাসরি এশীয় ধনী মহলের কাছে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

এই সংলাপের ক্ষমতা-কাঠামো সমমিত নয়: রুবিও আসছেন মার্কিন সরকারের কূটনৈতিক ও দরকামার সম্পদ নিয়ে, অথচ সবচেয়ে ধনী কয়েকজন ব্যক্তির হাতে রয়েছে ধনসম্পদের নিয়ন্ত্রণ। প্রতিবেদনে যাঁদের সঙ্গে দেখা করবেন তাঁরা নির্দিষ্ট কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিত্ব করবেন কি না, তাদের আনুষ্ঠানিক দরকামার ভূমিকা আছে কি না, অথবা ভারত সরকারের সঙ্গে তাঁদের কীভাবে দায়িত্ব ভাগ হবে—এসব বলা হয়নি। তাই এই তথ্যের ভিত্তিতে কোনো নির্দিষ্ট ধরনের মূলধন চুক্তিকে ইতিমধ্যে প্রভাবিত করেছে বলে দাবি করা যায় না। যা নিশ্চিত করা যায় তা হলো, ওয়াশিংটন বাণিজ্য কর্মকাণ্ড সরকারি মার্গপথ থেকে সরাসরি এশিয়ার কয়েকজন সবচেয়ে ধনী ব্যক্তির কাছে নিয়ে যাচ্ছে।

চুক্তি থেকে কে উপকৃত হবে এবং কে খরচ বহন করবে, তা সাক্ষাতের তালিকা থেকে সরাসরি অনুমান করা যায় না। প্রতিবেদনে প্রস্তাবিত শর্তাবলি, দরকামার সময়সূচি, সম্ভাব্য সুবিধাভোগী বা খরচ বহনকারীদের কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তাই নতুন বাণিজ্যিক সুযোগ প্রতিষ্ঠান, ভোক্তা নাকি অন্য কোনো গোষ্ঠীর কাছে যাবে, এবং সমন্বয়ের ব্যয় কার ওপর পড়বে—এসব এখনও উত্তরহীন। ভারত সরকার, সাক্ষাৎকারী ব্যক্তিরা এবং সাধারণ মানুষের প্রত্যেকের ভূমিকা স্পষ্ট করতে চুক্তির লেখা ও বাস্তবায়ন-ব্যবস্থার প্রয়োজন।

সফরটি রুবিও ও ট্রাম্পের মধ্যে তিক্ততা থাকা পটভূমিতেও হচ্ছে। প্রতিবেদনে তিক্ততার কারণ ব্যাখ্যা করা হয়নি, এবং ট্রাম্প এই যাত্রা বা সাক্ষাতের ফলাফল সমর্থন করেন কি না তাও জানানো হয়নি। রাষ্ট্রসচিবর হিসেবে রুবিও ভারতের সঙ্গে অর্থনৈতিক-বাণিজ্যিক যোগাযোগ এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন—এর থেকে বোঝা যায় না যে বাণিজ্য নীতিতে তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে ইতিমধ্যে একমত হয়েছেন। এই অভ্যন্তরীণ তিক্ততা সফরের ফলাফলে আরও একটি অনিশ্চয়তার স্তর যোগ করেছে।

বর্তমান পর্যন্ত নিশ্চিত করা যায় যে অগ্রগতি হয়েছে তা হলো রুবিওর ভারত সফর এবং এশীয় ধনীদের সঙ্গে সাক্ষাতের পরিকল্পনা। চুক্তির লেখা, সময়সূচি ও স্বার্থ বণ্টনের পরিকল্পনা এখনও প্রকাশ করা হয়নি; তিনি যে অর্থনৈতিক যোগাযোগ শক্তিশালী করতে চেয়েছেন, তাও এখনও যাচাইযোগ্য বাণিজ্যিক ফলাফলে রূপ পাননি।

মন্তব্য

0

এখনও কোনো মন্তব্য নেই। আলোচনা শুরু করুন।

রুবিওর ভারত সফরে এশীয় ধনীদের সঙ্গে বৈঠকের পরিকল্পনা: ওয়াশিংটনের বাণিজ্য কর্মকাণ্ড কে উপকৃত হবে, কে চাপে পড়বে? | Truth Era