বিশ্ব ও নিরাপত্তা

অলবার্টায় দুই-তৃতীয়াংশের বেশি ভোটার স্বাধীনতার গণভোট প্রক্রিয়া চালুর অনুমোদন প্রত্যাখ্যান করলেন; আদিবাসীদের সঙ্গে পরামর্শের বিতর্ক ও সম্পদসংক্রান্ত দ্বন্দ্ব রয়ে গেছে

BBC-এর আলোকে অলবার্টা নির্বাচন সংস্থা Elections Alberta-এর প্রাথমিক ফলাফল অনুযায়ী, দুই-তৃতীয়াংশের বেশি ভোটার কানাডায় থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং প্রদেশ সরকার কর্তৃক সংধিবদ্ধ স্বাধীনতার গণভোট শুরু করার জন্য প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া প্রত্যাখ্যান করেছেন; এই ভোট সরাসরি অলবার্টার স্বাধীনতার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়নি। আগে একজন বিচারক আদিবাসী প্রথম জাতিগোষ্ঠীদের সঙ্গে পরামর্শ না করার কারণে সংশ্লিষ্ট আবেদন আটকে দিয়েছিলেন; স্মিথ তবু গণভোট এগিয়ে নিয়েছিলেন, ফলে পরামর্শের প্রশ্ন ভোটের মাধ্যমে সমাধান

0 বার দেখা হয়েছেসংরক্ষণ করতে প্রবেশ করুন
TRUTH ERA

অলবার্টার ভোটাররা দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যায় প্রদেশ সরকার কর্তৃক সংধিবদ্ধ স্বাধীনতার গণভোট শুরু করার জন্য প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়ার অনুমোদন প্রত্যাখ্যান করেছেন। BBC-এর আলোকে অলবার্টা নির্বাচন সংস্থা Elections Alberta-এর প্রাথমিক ফলাফল অনুযায়ী, সোমবার অনুষ্ঠিত ভোটে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি ভোটার কানাডায় থাকার পক্ষ নিয়েছেন। BBC জানিয়েছে, ভোটের প্রশ্ন ছিল সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা উচিত কি না, সরাসরি অলবার্টার স্বাধীন হবে কি না তা নয়। তবে চূড়ান্ত গণনায় যাচাইকৃত মতপত্রের সংখ্যা ও সম্পূর্ণ ভোটদানের হার এখনও নিশ্চিত করা হয়নি।

এই ফলাফল গণভোট শুরুর আইনি পথ বন্ধ করেছে; এটিকে ওটোয়ার বর্তমান নীতির পূর্ণ অনুমোদন হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। প্রদেশ প্রধানমন্ত্রী অ্যানি স্মিথ নিজে স্বাধীনতার বিরোধী, তবে এ বিষয়ে জনগণের ভোটদানের ইচ্ছাকে অস্বীকার করা যায় না বলে মনে করেন। BBC-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গণভোট সমর্থনকারী আবেদনে প্রায় ৩ লক্ষ স্বাক্ষর পড়েছিল, আর স্বাধীনতার বিরোধী আবেদনে ৪ লক্ষের বেশি। স্মিথ শেষ পর্যন্ত বিষয়টি ভোটার সিদ্ধান্তের ওপর ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

প্রাথমিক ফলাফলের পরও প্রক্রিয়াগত বিতর্ক দূর হয়নি। BBC-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গণভোট চাওয়া আবেদন একজন বিচারক কর্তৃক আটকে দেওয়া হয়েছিল; কারণ ছিল আদিবাসী প্রথম জাতিগোষ্ঠীদের সঙ্গে পরামর্শ করা হয়নি। স্মিথ তবুও ভোট অগ্রসর করার সিদ্ধান্ত নেন। বিচারকের উত্থাপিত আদিবাসীদের সঙ্গে পরামর্শের প্রশ্নটি ভোটের প্রশ্নে অন্তর্ভুক্ত ছিল না, আর এই গণভোটেও তা বিচার করা হয়নি। কার্নি ফলাফলটিকে ‘স্পষ্ট পছন্দ’ বলে অভিহিত করলেও, সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট শুধু গণভোটের প্রক্রিয়া শুরু করা হবে কি না তার উত্তর দিয়েছে।

স্বাধীনতার দাবির পেছনের অর্থনৈতিক যুক্তিও এই গণভোটে বিচার করা হয়নি। BBC জানিয়েছে, স্বাধীনতার পক্ষ দাবি করেছে যে তেলে সমৃদ্ধ অলবার্টা প্রদেশের অর্থনৈতিক বৃদ্ধি ওটোয়ার পরিবেশ নীতিতে বাধাগ্রস্ত; প্রতিবেদনে এই দাবি যাচাই করার জন্য স্বাধীন অর্থনৈতিক তথ্য দেওয়া হয়নি। স্বাধীনতার বিরোধী পক্ষ বাইরের চাপ—যেমন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক যুদ্ধ—জাতীয় ঐক্যের দাবির কারণ হিসেবে উপস্থাপন করেছে। কার্নি বলেছেন, এই চাপগুলোর মোকাবিলায় কানাডা একটি অখণ্ড জোট হিসেবে দাঁড়াবে। এসব যুক্তি কোনোক্রমে বলেনি যে ফেডারেশন ও প্রদেশের মধ্যে সম্পদের স্বার্থ কীভাবে ভাগ করা উচিত।

আরও জটিল বিষয় হলো, ফেডারেশনের পরিবেশ নীতি স্বাধীনতার পক্ষের সমালোচনার লক্ষ্য হলেও কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক সরকার সম্পদ বাইরে পাঠানোর ক্ষেত্রে একসঙ্গে কাজ করতে পারে। BBC-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত এক বছরে কার্নি ও স্মিথ যৌথভাবে প্যাসিফিক উপকূলে যাত্র করা একটি তেল পাইপলাইন এগিয়ে নিয়েছেন। পাইপলাইনটি একসঙ্গে এগিয়ে নেওয়া পরিবেশ নীতি বৃদ্ধিকে বাধা দেয় কি না তা প্রমাণ করে না; এই গণভোটেও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা, আয় ও ব্যয় কীভাবে বণ্টন হবে তার উত্তর দেয়নি। ওটোয়া ‘কানাডায় থাকা’কে এই বিতর্কগুলো এড়িয়ে যাওয়ার অনুমতি হিসেবে ব্যবহার করতে পারবে না।

স্মিথ বলেছেন, তিনি প্রদেশ প্রধানমন্ত্রী থাকা অবস্থায় স্বাধীনতার বিষয়ে আবার গণভোট হবে না। স্বাধীনতার নেতা জেফরি রস BBC-কে জানিয়েছেন, আন্দোলন থামবে না; তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো চাওয়া ফলাফল না পাওয়া পর্যন্ত বারবার ভোট হবে কি না, তিনি উত্তর দিলেন, ‘কেন না?’ BBC-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, অলবার্টার স্বাধীনতার পক্ষ কুয়েবেকের ১৯৮০ ও ১৯৯৫ সালের অসফল দুইটি গণভোটকে উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করে মনে করিয়ে দিয়েছে যে স্বাধীনতার হুমকি কুয়েবেকের রাজনৈতিক সুবিধা জুগিয়েছিল। এই যুক্তি গণভোটকে দরকষাৎয় চাপের হাতিয়ার বানিয়ে দেয়। স্মিথের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, তাঁর মেয়াদে গণভোটের অবসান ঘটবে; ভবিষ্যতে স্বাধীনতার বিষয়টি আবার তোলা হবে কি না তা পরবর্তী রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।

সাস্কাচেওয়ানের প্রদেশ প্রধানমন্ত্রী স্কট ময় অলবার্টার একত্র থাকার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বললেন, ‘পশ্চিম কানাডা ওটোয়ার শাসনে কীভাবে আচরিত হবে, তা নিয়ে এখনও কাজ করা দরকার।’ BBC-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, কার্নি সেদিন স্মিথের সঙ্গে সহযোগী ফেডারেশন নিয়ে আলোচনা করেছেন; এতে অভিবাসন ও অন্যান্য সাধারণ অগ্রাধিকারও অন্তর্ভুক্ত ছিল। তাদের দুজনের মধ্যে তেল পাইপলাইনের মতো শক্তিসম্পদ বিষয়ে সহযোগিতার অ্যাজেন্ডা ইতিমধ্যেই রয়েছে, তবে এই গণভোটে সম্পদ নিয়ন্ত্রণ বা আদিবাসীদের সঙ্গে পরামর্শের নতুন কোনো ব্যবস্থা তৈরি হয়নি।

এডমন্টনে স্বাধীনতার সমর্থনে একটি সমাবেশ BBC-এর বর্ণনা অনুযায়ী, প্রাথমিক ফলাফল প্রকাশের পর কথাবার্তা দ্রুত থেমে গেল এবং মানুষ একে একে বাড়ি ফিরতে লাগলেন; রস কিন্তু কঠোর অবস্থান রেখে বললেন, আন্দোলন চলতেই থাকবে। প্রাথমিক ফলাফল এই মুহূর্তের আইনি পথটি বন্ধ করে দিয়েছে, তবে আদিবাসীদের সঙ্গে পরামর্শের বিতর্ক, সম্পদ নিয়ন্ত্রণ এবং ফেডারেশনে পশ্চিমের অবস্থান এখনও অমীমাণীত বিষয়।

মন্তব্য

0

এখনও কোনো মন্তব্য নেই। আলোচনা শুরু করুন।