টায়েজের জলসরবরাহ ব্যবস্থা হুমকির মুখে: সৌদিকে সুরক্ষায় যুক্তরাজ্যের সহায়তা ও ইয়েমেনে সামরিক তীব্রতার দায়িত্বের সীমানা
আল-জাজিরা টেলিভিশনের ইউএন সংস্থাগুলোর বার্তা উল্লেখ করে জানানো অনুযায়ী, জুলাইয়ে সংঘর্ষ পুনরায় তীব্র হওয়ার পর ইয়েমেনে ২৫ লাখেরও বেশি মানুষ উদ্বাস্ত হয়েছেন; টায়েজে গোলাপি আঘাত ও জ্বালানির ঘাটতি প্রায় ৩০ লাখ মানুষকে পরিবেশনকারী জলসরবরাহ ব্যবস্থাকে হুমকির মুখে ফেলেছে, যার মধ্যে অন্তত ১৬ লাচ শিশু রয়েছে। যুক্তরাজ্য একই সময়ে সৌদিকে রক্ষায় সহায়তার প্রতিরক্ষামূলক মিশন পালনের জন্য ‘টাইফুন’ বিমান মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছে, কিন্তু মিশনের আকার, সময়কাল ও অপারেশনের নিয়মাবলি প্রকাশ করেনি; ততকালে সৌ
আল-জাজিরা টেলিভিশনের ২০২৬ সালের ২০ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাতিসংঘের শিশু তহবিল (ইউনিসেফ) সতর্ক করেছে যে টায়েজে সংঘর্ষ তীব্র হওয়া ও জ্বালানির ঘাটতি স্থানীয় জলসরবরাহ ব্যবস্থাকে হুমকির মুখে ফেলছে। ব্যবস্থাটি আনুমানিক ৩০ লাখ মানুষকে পরিবেশন করে, যার মধ্যে অন্তত ১৬ লাচ শিশু রয়েছে। ইয়েমেনের ইউনিসেফ প্রতিনিধি আকিল আইয়ার বলেছেন: “টায়েজ ছিল ইয়েমেনের সবচেয়ে জলবিহীন এলাকাগুলোর একটি; এখন হাজার হাজার উদ্বাস্ত পরিবার যেসব মৌলিক সেবার ওপর নির্ভর করে, সেগুলো আবার চাপের মধ্যে পড়েছে।”
আল-জাজিরা টেলিভিশনের জাতিসংঘের শরণার্থী দপ্তরের বার্তা উল্লেখ করে জানানো অনুযায়ী, জুলাইয়ে সংঘর্ষ পুনরায় তীব্র হওয়ার পর ইয়েমেনে ২৫ লাখেরও বেশি মানুষ উদ্বাস্ত হয়েছেন। দপ্তর কর্তৃক জানানো শহর ছেড়ে আসা মানুষের সংখ্যার ৭৬% টায়েজে রয়েছে এবং নতুন উদ্বাস্তদের ৫২%-ও টায়েজে গ্রহণ করা হয়েছে। প্রায় ৩.৩৭ লাখ পরিবারকে এখনও আবাসন সহায়তা দরকার; সবচেয়ে জরুরি প্রয়োজনের মধ্যে রয়েছে আবাসন, খাদ্য ও বহুমুখী নগদ সহায়তা; মানবিক সাড়ার তহবিলের তীব্র ঘাটতি রয়েছে।
জাতিসংঘের শরণার্থী দপ্তর তার বক্তব্যে সতর্ক করেছে: “টায়েজে গোলাপি আঘাত বেড়েছে, যার মধ্যে আবাসন এলাকা ও চিকিৎসাকেন্দ্রের আশপাশও রয়েছে; আর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর অনিরাপদতা ও যাতায়াত সীমাবদ্ধতা মানবিক প্রবেশাধিকার ও মানুষের চলাচলকে অব্যাহতি রাখছে।” আল-জাজিরা টেলিভিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হুথি বাহিনী অক্টোবরের শুরু থেকে টায়েজকে ঘিরে রেখেছে এবং শহরটিকে আদেনের সঙ্গে সংযুক্ত করা সড়ক বন্ধ করে দিয়েছে, ফলে বেসামরিকদের সরিয়ে নেওয়া ও সহায়তা পরিবহন আরও বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
সংঘর্ষ অন্য ফ্রন্টেও ছড়িয়ে পড়েছে। ইয়েমেনের স্থানীয় কর্তৃপক্ষের জানানো অনুযায়ী, হুথিরা শাবওয়ায় একটি সামরিক প্রশিক্ষণ শিবিরে ব্যালিস্টিক মিসাইল দিয়ে আক্রমণ করেছে, যাতে অন্তত ৫৮ জন নিহিত হন; সংখ্যাটি স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি। ইয়েমেন সরকার বলেছে, প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি সামরিক লাইন থেকে দূরে অবস্থিত একটি নিরাপদ কেন্দ্র; হুথিরা জানিয়েছে, লক্ষ্য ছিল সৌদির সমর্থনপুষ্ট বাহিনী। আল-জাজিরা টেলিভিশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আক্রমণের পর ইয়েমেন সরকারি বাহিনী টায়েজের কাছাকাছি প্রতিশোধমূলক আঘাত হানিয়েছে।
এরপর সৌদির সমর্থনপুষ্ট সরকারি বাহিনী পাল্টা আক্রমণে নেমে ‘ইয়েমেনের ভোর’ অপারেশন শুরু করে, যার লক্ষ্য হুথির নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকাগুলো পুনরুদ্ধার করা; এর মধ্যে রয়েছে ২০১৪ সালে হুথিরা যে সানা দখল করেছিল। আল-জাজিরা টেলিভিশন একই সঙ্গে জানিয়েছে, সৌদি বিমান হামলা বাড়াচ্ছে। টেলিভিশনের সাংবাদিক ইউসুফ মৌরি লিখেছেন: “সীমান্ত পার হয়ে আক্রমণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ইয়েমেনিরা উদ্বেগ করছেন যে যুদ্ধ তাদের ঘরের দিকে ঘনিয়ে আসছে, বিশেষত দুই পক্ষ যুদ্ধ তীব্র করার হুমকি দেওয়ার সময় সৌদি বিমান হামলা বাড়াচ্ছে।”
যুক্তরাজ্য অবশ্য ঘোষণা দিয়েছে, তারা রয়্যাল এয়ার ফোর্সের ‘টাইফুন’ বিমান মোতায়েন করবে, প্রতিরক্ষামূলক মিশন পালন করতে এবং হুথি বাহিনীর আক্রমণ থেকে সৌদিকে রক্ষা করতে সহায়তা করবে। যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, বিমানগুলো হুথি বাহিনীর বিরুদ্ধে আক্রমণ করবে না। তবে ‘প্রতিরক্ষামূলক’ কেবল লক্ষ্য সীমাবদ্ধ করার একটি ঘোষণা: বর্তমানে প্রাপ্ত তথ্যে মোতায়েনের আকার, সময়কাল ও অপারেশনের নিয়মাবলি কী তা বলা হয়নি; এখানেও বলা হয়নি, ব্রিটিশ বিমানগুলো কেবল আসন্ন লক্ষ্যবস্তু আটকানোর কাজ করবে, নাকি আরও বিস্তৃত ভূমিকা পালন করবে, এবং মিশনটি সৌদির বিদ্যমান বিমান হামলার সঙ্গে কীভাবে ওত্তিজড়িত হবে।
কোনো নির্দিষ্ট হত্যাকাণ্ড ঘটানো কোনো সামরিক অপারেশনে ব্রিটিশ বিমানগুলোর অংশগ্রহণের প্রমাণ নেই, তবে এতে যুক্তরাজ্য সৌদিকে সামরিক সুরক্ষায় সক্রিয়ভাবে সহায়তা করছে—এই বাস্তবতা অপরিবর্তিত থাকে না। যুক্তরাজ্যকে অবশ্যই ব্যাখ্যা করতে হবে, মিশনটি কেবল আসন্ন লক্ষ্যবস্তু আটকানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ, নাকি এতে আরও বিস্তৃত গোয়েন্দা, সমন্বয় বা সুরক্ষা ব্যবস্থাও অন্তর্ভুক্ত।
দায়িত্বের সীমানা নির্দিষ্ট কর্মকাণ্ডের ওপর প্রতিষ্ঠা করতে হবে। শাবওয়ার মিসাইল হামলার জন্য হুথি বাহিনীর সরাসরি কার্যগত দায়িত্ব রয়েছে। উপলব্ধ তথ্যতেই নিশ্চিত হয়েছে যে ইয়েমেন সরকারি বাহিনী টায়েজের কাছাকাছি প্রতিশোধমূলক আঘাত হানিয়েছে; এই বাহিনীকে সৌদি রাষ্ট্রের সঙ্গে সমান করা যায় না, এবং এর কার্যক্রমকে পৃথকভাবে যাচাইয়ের অধীন রাখতে হবে। টায়েজে আবাসন এলাকা ও চিকিৎসাকেন্দ্রের আশপাশে গোলাপি আঘাত বাড়লেও বর্তমান তথ্যে প্রতিটি ঘটনার জন্য হামলাকারীর পরিচয় উল্লেখ করা হয়নি, তাই কোনো পক্ষকে আগেভাগে দায়ী করা যায় না। সৌদির বিমান হামলা বাড়ানো এবং তার সমর্থনপুষ্ট সরকারি বাহিনীর পাল্টা আক্রমণ এই তীব্রতার এড়ানো যায় না এমন অংশ; অবশ্য যুক্তরাজ্যকে তার সক্রিয় সুরক্ষা সহায়তার পরিধি ও নিয়মাবলি ব্যাখ্যা করতে হবে। জলসরবরাহ ব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়া, সহায়তার পথ আটকে যাওয়া এবং উদ্বাস্ত হওয়ার পরিণতি শেষ পর্যন্ত ইয়েমেনের বাসিন্দাদের ওপর পড়ছে। টায়েজের বাসিন্দাদের ক্ষেত্রে ‘প্রতিরক্ষা’ জলসরবরাহ ব্যবস্থাকে হুমকি থেকে বাঁচাতে পারে না, আর সহায়তার পথও খুলে দিতে পারে না; দায়িত্ব নির্ধারণের বিষয়ে কাজের লেবেলে থেমে থাকা যায় না, বরং প্রতিটি চিহ্নিত সামরিক কাজ এবং তার বেসামরিকদের ওপর প্রভাবের দিকে নজর দিতে হবে।
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। আলোচনা শুরু করুন।