ফ্রান্সে গোষ্ঠীঅশান্তি মোকাবিলায় দ্বৈত ব্যর্থতা: বল প্রয়োগের মাত্রা ও রাজনৈতিক বৈধতার সমীক্ষা
ফ্রান্স ২৪-এর ইংরেজি চ্যানেলে ২০২৬ সালের ২০ অক্টোবর প্রচারিত সাক্ষাৎকারে রাজনৈতিক বিজ্ঞানী ডেমিয়েন লেকোঁট বলেছেন, ক্রমশ তীব্র হওয়া গোষ্ঠীঅশান্তি দেখিয়েছে রাষ্ট্রের মোকাবিলায় দ্বন্দ্ব: শান্তিশালী প্রদর্শনকারীদের ওপর অসমান মাত্রায় বল প্রয়োগ করা হয়েছে, আবার ব্যাপক সহিংসতাও নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়নি। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ঘনিয়ে আসলে তিনি সতর্ক করেছেন, দমনমূলক পদক্ষেপ শিক্ষা, জনসেবা ও জীবনযাত্রার ব্যয়সংক্রান্ত বৈধ দাবিগুলোর প্রতিফলিত সামাজিক সংকট দূর করতে পারবে না।
ফ্রান্স ২৪-এর ইংরেজি চ্যানেলে ২০২৬ সালের ২০ অক্টোবর প্রচারিত সাক্ষাৎকারে প্যারিস-পাঁথেও-আসাস বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক বিজ্ঞানী ও গবেষক ডেমিয়েন লেকোঁটের মতে, ক্রমশ তীব্র হওয়া গোষ্ঠীঅশান্তি দেখিয়েছে রাষ্ট্রের মোকাবিলায় গভীর দ্বন্দ্ব: একদিকে শান্তিশালী প্রদর্শনকারীদের ওপর অসমান মাত্রায় বল প্রয়োগ করা হয়েছে, অন্যদিকে ব্যাপক সহিংসতা নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি।
লেকোঁটের উল্লেখ করা “বিরোধাভাস”কে শান্তিশালী প্রদর্শনকারী ও সহিংসতা কর্মকারীদের এক করে ভাবার মধ্যে সরলীকরা যায় না। রাষ্ট্র বিভিন্ন পরিস্থিতিতে মাত্রার ভারসাম্যহীনতার মুখোমুখি হতে পারে: অন্যের ক্ষতি করা সহিংসতা রোধে কার্যকর আইন-শৃঙ্খলা প্রয়োগ প্রয়োজন, আর শান্তিশালী মতপ্রকাশের ক্ষেত্রে পুলিশের সংযম প্রয়োজন। প্রথম ধরনের সক্ষমতা ব্যর্থ হলে জনসুরক্ষার ক্ষতি হয়; দ্বিতীয় ধরনের সক্ষমতা ভুল মাত্রায় ব্যবহৃত হলে সাধারণ স্বাধীনতা ক্ষয়ে যায়। যে রাষ্ট্রকে একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও সাধারণ স্বাধীনতা সুরক্ষার দায়িত্ব বহন করতে হয়, তার ক্ষেত্রে এই দুই দায়িত্বকে পরস্পরের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা যায় না।
লেকোঁট শিক্ষা, জনসেবা ও জীবনযাত্রার ব্যয়কে দাবিদারদের বৈধ দাবির তালিকায় রেখেছেন এবং দেখিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ঘনিয়ে আসলে শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধার ইতোমধ্যে রাজনৈতিক বৈধতা, সাধারণ স্বাধীনতা এবং ফ্রান্সীয় সমাজের ভবিষ্যৎ পথনির্দেশ সংক্রান্ত রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের সঙ্গে জড়িয়ে গেছে। ফলে পুলিশ মোতায়েন ও রাস্তার নিয়ন্ত্রণ আর কেবল কৌশলগত আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থাপনার সিদ্ধান্ত নয়; এগুলো জনতাকেও দেখায়, রাষ্ট্র সামাজিক অসন্তোষের সঙ্গে সাড়া দিচ্ছে, নাকি অসন্তোষের সাড়া দেওয়ার দায়িত্ব আরও বেশি দমনমূলক কৌশলের ওপর নির্ভর করছে।
ফ্রান্স ২৪-এর অনুষ্ঠানের পরিচিতিতে লেকোঁটের সতর্কবার্তা উদ্ধৃত করা হয়েছে: “দমনমূলক পদক্ষেপ সামাজিক সংকটকে দূর করবে না।” এটিই মূল বিষয়: রাষ্ট্র রাস্তার আচরণ দমন করতে পারে, কিন্তু তাতে বৈধ দাবিগুলোতে শাসনতন্ত্রগত সাড়া দেওয়ার বিকল্প হতে পারে না। সংঘাতের উত্তর যদি কেবল আরও কঠোর হয়, তবে শিক্ষা, জনসেবা ও জীবনযাত্রার ব্যয়সংক্রান্ত সমস্যাগুলো অমীমাংসিতই থাকবে, আর রাজনৈতিক বৈধতা নিয়ে দ্বন্দ্বও তাই শান্ত হবে না।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ঘনিয়ে আসা পটভূমিতে এই বিতর্ক পরীক্ষা করছে, রাষ্ট্র কি একই সঙ্গে এই প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে পারে: কোন সহিংসতা কার্যকরভাবে রোধ করতে হবে, কোন শান্তিশালী প্রকাশকে সুরক্ষা দিতে হবে এবং রাস্তায় পুলিশের সংখ্যা বাড়ানো কি শিক্ষা, জনসেবা ও জীবনযাত্রার ব্যয়সংক্রান্ত বিষয়ে শাসনতন্ত্রগত সাড়ার বিকল্প হয়ে উঠছে। লেকোঁট যা নির্দেশ করেছেন তা প্রয়োজনীয় আইন-শৃঙ্খলাকে দুর্বল করা নয়, বরং এই পরীক্ষা করা যে বল প্রয়োগের ক্ষমতা সাধারণ স্বাধীনতা ও সামাজিক অধিকারের মধ্যে জনতার গ্রহণযোগ্য ভারসাম্য অর্জন করতে পারে কি না।
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। আলোচনা শুরু করুন।