বিশ্ব ও নিরাপত্তা

দক্ষিণ আফ্রিকার প্রাক্তন জাতীয় পুলিশ উপকমিশনার জামিনতা অস্বীকার: যৌন অপরাধের অভিযোগ ও পুলিশসংক্রান্ত দুর্নীতির তদন্ত একসঙ্গে চলছে

Africanews-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, দক্ষিণ আফ্রিকার র‍্যান্ডবার্গ ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত প্রাক্তন জাতীয় পুলিশ উপকমিশনার শাদ্রাক সিবিয়াকে জামিনতা দিতে অস্বীকার করেছে। আদালত মনে করেছে, তাঁকে কার্যকারভাবে আটক রাখার জন্য বিশেষ পরিস্থিতি আছে কি না তিনি প্রমাণ করতে পারেননি এবং মুক্তি পেলে সাক্ষীদের ক্ষতি হতে পারে। অভিযোগকারী পক্ষ আরও আশঙ্কা করছে যে তিনি পালিয়ে যেতে পারেন। সিবিয়াকে ১৮ বছরের এক তরুণীকে ধর্ষণ, মানব পাচার এবং ১৬ বছরের এক মেয়েকে যৌনভাবে প্ররোচিত করার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে; তিনি সব

0 বার দেখা হয়েছেসংরক্ষণ করতে প্রবেশ করুন
TRUTH ERA

Africanews-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, দক্ষিণ আফ্রিকার র‍্যান্ডবার্গ ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত প্রাক্তন জাতীয় পুলিশ উপকমিশনার শাদ্রাক সিবিয়ার জামিনতার আবেদন অস্বীকার করেছে। আদালত বলেছে, তাঁকে কার্যকারভাবে আটক রাখার জন্য বিশেষ পরিস্থিতি আছে কি না তিনি প্রমাণ করতে পারেননি এবং অভিযোগকারী পক্ষের মতে মুক্তি পেলে সাক্ষীদের ক্ষতি হতে পারে। অভিযোগকারী পক্ষ আরও আশঙ্কা করছে যে তিনি দেশ ছেড়ে পালাতে পারেন এবং এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে যেকোনো আপিলের প্রতিবাদে তারা লড়বে বলে জানিয়েছে।

৫৯ বছর বয়সী সিবিয়ার ওপর ১৮ বছরের এক তরুণীকে ধর্ষণ, মানব পাচার এবং ১৬ বছরের এক মেয়েকে যৌনভাবে প্ররোচিত করার অভিযোগ রয়েছে। তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, ১৮ বছরের নারীর সঙ্গে যৌন সংস্পর্শ দুই পক্ষের সম্মতিতে হয়েছিল। অভিযোগকারী পক্ষের দাবি অনুযায়ী, তিনি জোহান্সবার্গের একটি হোটেলে ওই নারীকে অ্যালকোহল দিয়েছিলেন এবং তারপর তিনি অচেতন হয়ে পড়লে তাঁকে ধর্ষণ করেছিলেন। সিবিয়াকে সেপ্টেম্বরে গ্রেপ্তার করা হয় এবং অক্টোবরে তিনি পুলিশ চাকরি থেকে পদত্যাগ করেন।

অভিযোগকারী পক্ষের মুখপাত্র কেইজার গানিগো আদালতের বাইরে বলেন, অভিযোগকারী পক্ষ তাদের হাতে থাকা সব তথ্য ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে জমা দিয়েছে এবং আপিলের বিরুদ্ধে লড়তে প্রস্তুতি নিয়েছে, "ন্যায়বিচার সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিত করতে হবে।" ম্যাজিস্ট্রেট আরও জানিয়েছেন, নিজের বিরুদ্ধে থাকা প্রমাণ চাপা দেওয়ার জন্য সিবিয়া যেকোনো মূল্যে উদ্বেগ করতে পারেন।

Africanews আরও জানিয়েছে, সিবিয়া একটি বিচারিকা কমিটির তদন্তে আছেন, যার অধ্যক্ষতা করছেন একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারক। তদন্তের পরিধির মধ্যে রয়েছে পুলিশের অভ্যন্তরে দুর্নীতির অভিযোগ এবং সম্ভাব্য অপরাধী নেটওয়ার্কের সদস্যদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ। কমিটির কাছে শোনা অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রাখতেন এবং বিপুল পরিমাণ নগদ ও উপহার গ্রহণ করেছিলেন। এসব বিষয় তদন্তকালীন অভিযোগের অংশ; প্রতিবেদনে দেখা যায়নি যে কমিটি তাঁর ক্ষেত্রে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সিবিয়া একটি সময়ে জাতীয় পুলিশের নেতৃত্বে ছিলেন, যার কারণে মামলাটি কেবল ব্যক্তিগত আইনি দায়িত্বের বিষয় নয়, বরং জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে জামিনতা ও পরবর্তী বিচারে অন্য অভিযুক্তদের মতো একই আইনি যাচাই পান কি না তাও প্রশ্নের বিষয়। র‍্যান্ডবার্গ আদালত জামিনতা অস্বীকার করে তাৎক্ষণিক মুক্তির পথ বন্ধ করেছে, তবে অভিযোগগুলো প্রতিষ্ঠিত হয়েছে কি না সে বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত দেয়নি; পুলিশের অভ্যন্তরে দুর্নীতি এবং সিবিয়ার সম্ভাব্য অপরাধী নেটওয়ার্কের সঙ্গে যোগাযোগ সংক্রান্ত তদন্তও চলমান রয়েছে।

মন্তব্য

0

এখনও কোনো মন্তব্য নেই। আলোচনা শুরু করুন।