যুক্তরাষ্ট্রের আপিল কোর্টে ১৭ বছরের নিবন্ধক মামলায় খারিজের রায় বহাল: ২০১৬-এর চুক্তিতে স্থায়ী বিক্রয় নিষেধাজ্ঞা ছিল না
দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়ার Justia-তে উদ্ধৃত আদালতের রেকর্ড অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১৯ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এলেভেন্থ সার্কিট কোর্ট অব আপিলস গ্রেগরি ব্রায়ান মাইয়ার্সের মামলা খারিজের রায় বহাল রাখে এবং সেই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে। আদালতের মতে, ২০১৬ সালে মেরিল্যান্ড রাজ্যের আদালতের অ্যাকাউন্টে প্রতি মাসে ৫ হাজার ডলার জমা দেওয়ার চুক্তিতে স্থায়ীভাবে বিক্রয় নিষিদ্ধ করার কোনো প্রতিশ্রুতি ছিল না; চুক্তিটি কেবল দম্পতির আপিল বিচারাধীন থাকা অবস্থায় বাড়ি বিক্রয়ে বাধা দিয়েছ
দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়ার Justia-তে উদ্ধৃত আদালতের রেকর্ড অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১৯ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এলেভেন্থ সার্কিট কোর্ট অব আপিলস জেলা আদালতের গ্রেগরি ব্রায়ান মাইয়ার্সের মামলা খারিজের রায় বহাল রাখে এবং রায়টি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে। খারিজের সিদ্ধান্তটি চূড়ান্ত হওয়ায় মাইয়ার্স একই মামলায় একই দাবি আর উত্থাপন করতে পারবেন না। ২০০৯ সালে শুরু হওয়া আবাসিক নিবন্ধক বিতর্ক ফেডারেল আপিল পর্যায়ে প্রক্রিয়াগতভাবে শেষ পেল।
বিতর্কের কেন্দ্রে ছিল ফ্লোরিডার ন্যাপলসে একটি আবাসিক বাড়ি। মাইয়ার্স ও তাঁর স্ত্রী বারবারা অ্যান কেলির অপরিশোধিত মর্টগেজের বিষয়ে U.S. Bank আইনি পদক্ষেপ নেয়। ফ্লোরিডার আদালত বলে যে দুজন ৬৬টি মর্টগেজ কিস্তি পরিশোধ করেননি এবং ব্যাংকের নিবন্ধক কার্যক্রম এগিয়ে নিতে সহায়তা করে; এরপর দম্পতি আপিল করেন। আপিল বিচারাধীন থাকাকালীন মাইয়ার্স মেরিল্যান্ডে দেউল্য আইনের অধ্যায় ১১-এর আওতায় আবেদন করেন, যাতে ব্যাংকের কিছু পুনরুদ্ধারমূলক পদক্ষেপ সাময়িকভাবে বিরত থাকে। ঋণটি একটি মর্টগেজ লোন-ব্যাকড সিকিউরিটিজ ট্রাস্টের পক্ষে U.S. Bank National Association-এর কাছে ছিল।
২০১৬ সালের নভেম্বরে মাইয়ার্স ও U.S. Bank-এর মধ্যে চুক্তি হয়: ব্যাংক মামলা চালিয়ে যেতে পারবে, তবে দম্পতির আপিল চূড়ান্তভাবে ব্যাংকের অনুকূলে না শেষ হওয়া পর্যন্ত বাড়ি বিক্রি করতে পারবে না; মাইয়ার্সকে প্রতি মাসে মেরিল্যান্ড রাজ্যের আদালতের অ্যাকাউন্টে ৫ হাজার ডলার জমা দিতে হবে। ব্যাংক জিতলে ওই অর্থ ব্যাংকের হবে, তবে তা দম্পতির ঋণের বিপরীতে পরিশোধিত হিসেবে গণনা করতে হবে। মাইয়ার্স পরে দাবি করেন যে তিনি মোট ৭০ হাজার ডলার জমা দিয়েছেন।
এই শর্তগুলোতে মাসিক জমা, সাময়িক বিক্রয় নিষেধাজ্ঞা এবং ব্যাংক জেতার পর ঋণ সমন্বয় একত্রে যুক্ত হয়েছিল; তবু মাইয়ার্সকে চুক্তির মেয়াদের বাইরে কোনো স্বাধীন স্থায়ী বিক্রয়-নিষেধাজ্ঞার অধিকার দেওয়া হয়নি।
২০১৮ সালে ফ্লোরিডা আপিল কোর্ট নিবন্ধকের অনুকূলে মূল রায় বহাল রাখে। ফলে দম্পতির আপিল প্রক্রিয়া শেষ হয় এবং চুক্তির অধীনে বিক্রয়ে বাধা দেওয়া সাময়িক শর্তও বিলুপ্ত হয়। ২০২৪ সালে ব্যাংক বাড়ি বিক্রয়ের ব্যবস্থা করতে চাওয়ার পর মাইয়ার্স আবার মামলা করেন এবং ২০১৬-এর চুক্তি ভাঙা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন। তাঁর মামলার আরও সংশোধিত অভিযোগে নির্মিত প্রতারণা, ফেডারেল ঋণ আদায় আইন ভাঙা এবং সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘনের দাবিও রাখা হয়েছিল।
জেলা আদালত প্রথমে মনে করে যে প্রাথমিক অভিযোগে স্পষ্টভাবে বলা হয়নি কোন আসামী কোন অবৈধ আচরণের জন্য দায়ী, পরে মাইয়ার্সকে অভিযোগ সংশোধনের অনুমতি দেয়। সংশোধিত অভিযোগে ভিন্ন নামের U.S. Bank সত্তা এবং Credit Suisse First Boston Mortgage Acceptance Corp. তালিকাভুক্ত করা হলেও চুক্তি ভাঙা, প্রতারণা ও ঋণ আদায়-সংক্রান্ত দাবিগুলো খারিজ করা হয়।
এলেভেন্থ সার্কিট আদালতের মতে, ২০১৬-এর চুক্তিতে কখনোই বাড়ি বিক্রি স্থায়ীভাবে বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি ছিল না; তা কেবল দম্পতির আপিল বিচারাধীন থাকা সময়ে কার্যকর ছিল। ২০১৮ সালে আপিল প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর ব্যাংক নিবন্ধক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া চুক্তি ভাঙা হওয়ার সমান নয়। প্রতারণার দাবি সমর্থনে মাইয়ার্স যথেষ্ট তথ্য দেননি বলে আদালত মনে করে। একই সঙ্গে আদালত জানায়, দেউল্য সুরক্ষা ঋণগ্রহীতার বিরুদ্ধে অন্য ব্যক্তির দায়ের মামলার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য; মাইয়ার্স নিজে এই মামলা করার পর ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়ায় পরবর্তীতে দেউল্য আবেদন করেও আদালতের বিচার থামাতে পারবেন না। আপিল আদালত একই সঙ্গে মনে করে যে ভিন্ন নামের ব্যাংক সত্তাগুলোকে একই আসামী হিসেবে বিবেচনা করার বিষয়টি ফলাফলে কোনো প্রভাব ফেলেনি।
মাইয়ার্সের বিপরীতে সিদ্ধান্তের তিনটি থামা-পথ ছিল: চুক্তির কার্যকর মেয়াদ, আসামীদের পরিচয় এবং প্রতারণার দাবির তথ্যভিত্তি। চুক্তির মেয়াদ স্পষ্ট ছিল, তাই তার ভিত্তিতে স্থায়ী বিক্রয় নিষেধাজ্ঞা চাওয়া যায় না; ভিন্ন নামের ব্যাংক সত্তাগুলোকে কীভাবে শনাক্ত করা হয়, তা ফলাফলে প্রভাব ফেলেনি; আর প্রতারণার দাবিতে যথেষ্ট তথ্য ছিল না। ১৭ বছরে দেউল্য প্রক্রিয়া, ফ্লোরিডার আদালত, ফেডারেল জেলা আদালত ও ফেডারেল আপিল আদালতের মধ্য দিয়ে বিতর্ক চলেছে; চুক্তি কার্যকর থাকাকালীন মাইয়ার্সকে প্রতি মাসে জমা দিতে হতে হয়েছে, অথচ ব্যাংকের কাছে নিবন্ধক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার অধিকার অক্ষুণ্ণ ছিল। আদালতের চুক্তি-ব্যাখ্যা অনুযায়ী, শর্তাবলির অসমতা স্পষ্ট: আপিল চলাকালে ব্যাংক বিক্রয়-নিষেধাজ্ঞায় আবদ্ধ ছিল, কিন্তু ব্যাংক জেতলে ধারকের করা জমা ঋণ পরিশোধে ব্যবহৃত হতো; আপিল শেষ হলেই সাময়িক নিষেধাজ্ঞা উঠে যেত।
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। আলোচনা শুরু করুন।